এনুগুতে ১৮ নভেম্বর ১৯৪৯ তারিখে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ঘটিত শোষণমূলক গুলিবর্ষণকে নিয়ে নাইজেরিয়ার উচ্চ আদালত আজ ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রত্যেক শিকারের পরিবারের জন্য £২০ মিলিয়ন (প্রায় $২৭ মিলিয়ন) ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিয়েছে। মোট ২১ জন কোল মাইনারের পরিবার এই আদেশের অধীনে আর্থিক সান্ত্বনা পাবে।
ইভা ভ্যালি কোল মাইনের শ্রমিকরা কঠোর কাজের পরিবেশ, বর্ণভিত্তিক বেতন বৈষম্য এবং বকেয়া বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে গিয়ে ধীরগতির কর্মসূচি গ্রহণ করে খনি দখল করে রাখে। তাদের দাবি পূরণ না হলে, ঔপনিবেশিক পুলিশ, যেখানে নাইজেরিয়ান ও ইউরোপীয় দুজনই অন্তর্ভুক্ত, গুলিবর্ষণ করে ২১ জনকে প্রাণঘাতী করে এবং আরও বহু শ্রমিককে আহত করে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এটিকে ব্রিটিশ শাসনের সময়ের অন্যতম কুখ্যাত দমনমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এনুগু উচ্চ আদালতে বিচারক অ্যান্থনি অনোভোর রায়ে এই গুলিবর্ষণকে অবৈধ ও অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মানব জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ব্রিটিশ সরকারকে এই অপরাধের জন্য দায়ী করা হবে এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
বিচারক অনোভো রায়ে বলেন, “এই নিরপরাধ কোল মাইনাররা কেবল কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য দাবি জানিয়েছিল, কোনো সহিংস কার্যকলাপে লিপ্ত হননি, তবু গুলিবর্ষণ করা হয়।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত শোষণমূলক গুলিবর্ষণের ন্যায়বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে।
শিকারের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দশকের পর দশক ধরে এই ঘটনার স্বীকৃতি এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে এসেছে। তাদের দাবির ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক ক্ষতিপূরণ, যা শেষমেশ আজকের রায়ে সাফল্য পেয়েছে।
ঐতিহাসিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ১৯৪৯ সালের এই গুলিবর্ষণই নাইজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছিল এবং ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রায়কে ঐতিহাসিক দায়িত্ব স্বীকারের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলাটি মানবাধিকার কর্মী মাজারি গ্রেগ ওনোহের নেতৃত্বে দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ব্রিটিশ সরকার এবং নাইজেরিয়া সরকারকে উত্তরদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওনোহের দল দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়টি তুলে ধরেছে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী প্রফেসর ইয়েমি আকিনসেই-জর্জের মতে, রায়টি ঔপনিবেশিক সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি যোগ করেন, “এই রায়টি প্রমাণ করে যে মানব জীবনের অধিকার সময়, সীমানা বা সার্বভৌমত্বের পরিবর্তনের পরেও অটুট থাকে।”
ব্রিটিশ সরকার থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি; তবে ব্রিটিশ ফরেন অফিসকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই রায়কে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অতীতের পুনর্মূল্যায়নের একটি সংকেত হিসেবে দেখছেন।
দূতাবাস স্তরে এই রায়ের প্রভাব স্পষ্ট। ব্রিটিশ সরকারকে এখন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর অধীনে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে, নাইজেরিয়া সরকারকে এই রায়ের বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে, যাতে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
বিশ্বের অন্যান্য ঔপনিবেশিক দেশগুলোরও অনুরূপ দাবিগুলি এখন বাড়ছে; উদাহরণস্বরূপ, ফরাসি সরকারকে অ্যালজেরিয়ার ঔপনিবেশিক সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ার এই রায়কে এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে ঔপনিবেশিক অতীতের ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।
রায়ের পরবর্তী ধাপগুলোতে ক্ষতিপূরণ বিতরণ, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য শিক্ষা প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিকারের পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের কষ্টের সমাপ্তি পাবে এবং নাইজেরিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।



