17 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ম্যানিফেস্টোতে উপগৃহ, মনোরেল ও বুদ্ধিমান ট্রাফিক ব্যবস্থা

বিএনপি ম্যানিফেস্টোতে উপগৃহ, মনোরেল ও বুদ্ধিমান ট্রাফিক ব্যবস্থা

বিএনপি ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করে, যেখানে ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম, জনপরিবহন ও নারীর নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোট জিতলে এই নীতি গুলো বাস্তবায়ন করা হবে, যা শহরের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে রাজধানীর বাইরে উপগৃহ (স্যাটেলাইট টাউন) গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এই নতুন নগরগুলোকে ঢাকা শহরের অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অবকাঠামো চাপ কমাতে ব্যবহার করা হবে, ফলে বাসস্থানের ঘাটতি ও ট্রাফিক জ্যাম হ্রাস পাবে বলে ধারণা।

পরিবহন ক্ষেত্রে মনোরেল প্রকল্পকে মেট্রো রেলের পাশাপাশি চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোরেলকে নিরাপদ ও দ্রুত সংযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে, শহরের কেন্দ্র ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সংযুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা বাসিন্দা ও পর্যটকদের চলাচলকে সহজতর করবে বলে ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ আছে।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ম্যানিফেস্টোতে “মহিলা-একান্ত” বাস চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই বাসগুলোতে ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর উভয়ই নারী হবে, যা নারীদের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ভ্রমণকে নিরাপদ করে তুলবে। বিভিন্ন রুটে এই সেবা চালু করে শহরের নারীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করা হবে।

বায়ু দূষণ কমাতে ঢাকা শহরে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চালু করার পাইলট প্রকল্পের কথাও ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত। ইভি ব্যবহার বাড়িয়ে গাড়ির নির্গমন হ্রাস করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনকে উৎসাহিত করা হবে।

ট্রাফিক জ্যাম মোকাবিলায় প্রধান সড়কে বুদ্ধিমান ট্রাফিক সিস্টেম (ITS) স্থাপন করা হবে। ITS এর মাধ্যমে সিগন্যাল সমন্বয়, রিয়েল-টাইম ট্রাফিক তথ্য প্রদান এবং যানবাহনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যা গাড়ি চলাচলকে মসৃণ করবে।

শহরের নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও টোলিং সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকার পার্কিং সমস্যার সমাধানে শেয়ার্ড পার্কিং স্পেসের প্রচার এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পার্কিং স্থান ভাগ করে ব্যবহার করলে যানজট কমবে এবং শহরের চলাচল সহজ হবে।

রিকশা সেবার নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। রিকশা চালকদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইস্যু করা হবে, যাতে সেবা মান উন্নত হয় এবং সেক্টরটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়।

বিএনপির এই বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধী দল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারী বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, এবং প্রকল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তারিত বিশ্লেষণ দাবি করা হয়েছে।

নির্বাচনমুখী এই ম্যানিফেস্টো ভোটারদের কাছে নগর উন্নয়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখে। যদি ভোটে বিজয়ী হয়, তবে উল্লেখিত সব উদ্যোগের বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু হবে, যা ঢাকা শহরের মুখোশ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অবশেষে, ম্যানিফেস্টোর বিষয়বস্তু ও তারেক রহমানের উপস্থাপনা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন ধাপ তৈরি করেছে। আগামী সপ্তাহে পার্টি নেতাদের আরও ব্যাখ্যা ও বিশদ পরিকল্পনা উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভোটের পূর্বে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments