মুম্বাইয়ের ওয়াঙ্কহেডে ৩০,০০০‑এরও বেশি ভক্তের উপস্থিতিতে ভারত এ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ এ প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শনি রাতে দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে নির্ধারিত। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এ‑এর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ওয়াঙ্কহেড স্টেডিয়ামের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে ভক্তদের উল্লাসের ঢেউ তোলা হবে, যেখানে ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ মানুষ টেলিভিশন স্ক্রিনের মাধ্যমে ম্যাচটি অনুসরণ করবে। স্টেডিয়ামের গর্জন ও উল্লাসের সুরে খেলোয়াড়দের মনোভাব গঠনের আশা করা হচ্ছে।
ভারত এ’র ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব শুক্রবারের শেষ প্রশিক্ষণ সেশনের পরে মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, “ঘরে খেললে সবসময় অতিরিক্ত চাপ থাকে, আর আমি তা থেকে পালাতে চাই না”। তিনি আরও যোগ করেছেন, “সত্যি বলতে nerves থাকবে, তবে ইতিবাচক দিকটি দেখলে উল্লাসের পরিমাণও বাড়বে”।
সুর্যকুমার বললেন, “স্টেডিয়ামে ৩০,০০০‑৩৫,০০০ মানুষ আসবে, আর বাড়িতে আরও অনেক দর্শক থাকবে। আমাদের কাজ হবে তাদেরকে আনন্দ ও বিনোদন দেওয়া”। তিনি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের এই প্রত্যাশা ভাগ করে নিতে বলেছিলেন, যাতে তারা ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে মনোযোগী থাকে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টি২০ দল হিসেবে ভারত এ বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে এবং শিরোপা রক্ষা করার জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। তবে ক্যাপ্টেন জোর দিয়ে বললেন, “আমরা শিরোপা রক্ষার জন্যই নয়, ভাল ক্রিকেট দেখানোর জন্যই এখানে”। তার মতে, দলটি নিজের শক্তি ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করবে।
দলীয় প্রত্যাশা ও ভক্তদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা একসাথে চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সুর্যকুমার উল্লেখ করেছেন, “যদি আমরা এই চাপকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি, তবে তা আমাদের শক্তিতে রূপান্তরিত হবে”। তিনি দলের মনোবলকে ইতিবাচক দিক থেকে চালিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ক্যাপ্টেনের মতে, ভক্তদের উল্লাসকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করা এবং তা মাঠে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, “যদি আমরা ভক্তদের উচ্ছ্বাসকে আমাদের গেমের অংশ বানাতে পারি, তবে তা আমাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে”। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটি প্রশিক্ষণ সেশনে ভক্তদের সাড়া শোনার চেষ্টা করেছে।
প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের দল টুর্নামেন্টের পূর্বে পাকিস্তানকে সুপার ওভারে পরাজিত করে বড় অপ্রত্যাশিত জয় অর্জন করেছে। এই জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং টুর্নামেন্টে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। সুর্যকুমার এই তথ্যকে উল্লেখ করে বললেন, “কোনো দলকে হালকা করে দেখা যায় না, সব দলই ভাল ক্রিকেটের সক্ষমতা রাখে”।
সুর্যকুমার আরও জোর দিয়ে বললেন, “এই ফরম্যাটে এক বা দুই ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে, অথবা এক বা দুই বোলার একদিনে ২৪ বোলের মাধ্যমে গেম বদলে দিতে পারে”। তিনি দলের কৌশলকে নমনীয় রাখার এবং প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি মুম্বাইতে এই ম্যাচের জন্য গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বললেন, “আমাদের জন্য এটি দেশের জন্য বিশেষ মুহূর্ত, এবং মুম্বাইয়ের আইকনিক স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা গর্বের বিষয়”। তার মন্তব্যে দলটির আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়।
গ্রুপ এ’র পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভারত এ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই তাদের গ্রুপের অন্যান্য দলগুলোর মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণ করবে। দলগুলোকে আগামী সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে, যাতে প্লে-অফের জন্য স্থান নিশ্চিত করা যায়। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত ভক্তদের জন্য উত্তেজনা ও আনন্দের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।



