ইউইডি হোউ নিউক্যাসলের কোচের কাছ থেকে ভক্তদের কাছে স্পষ্ট আহ্বান এসেছে; জার্মান স্ট্রাইকার নিক উইলটেমেডের জন্য ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে, যেহেতু দলটি শীঘ্রই ব্রেন্টফোর্ডের মুখোমুখি হবে। এই অনুরোধটি শনিবারের ঘরে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচের আগে প্রকাশিত হয়, যেখানে নিউক্যাসল টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করছে। হোউয়ের মন্তব্যে দল ও সমর্থকদের সমন্বিত সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন সিজনের শুরুর আগে নিউক্যাসল স্টুটগার্ট থেকে ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৯৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে নিক উইলটেমেডকে অর্জন করে, যা ক্লাবের সর্বোচ্চ রেকর্ড সাইনিং। ২৩ বছর বয়সী এই জার্মান ফরোয়ার্ড প্রথম ১১ ম্যাচে ছয়টি গোল করে তৎকালীন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। তার এই প্রাথমিক পারফরম্যান্স দলকে শীঘ্রই শীর্ষে পৌঁছানোর আশার সঞ্চার করে।
তবে শুরুর উজ্জ্বলতা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়; শেষ ১২ ম্যাচে উইলটেমেড কোনো গোলের নামই শোনাতে পারেনি। গোলহীন এই পর্বটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করে। হোউ এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে, বলছেন তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য নতুন লিগে মানিয়ে নেওয়া স্বাভাবিক।
হোউ জোর দিয়ে বলেন, “তিনি তরুণ, নতুন লিগে খেলা শুরু করেছে; শুরুর সময়ে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রত্যেকেরই আশা ছিল তিনি একই গতি বজায় রাখবেন, তবে বাস্তবতা ভিন্ন।” কোচের মতে, এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক এবং সময়ের সাথে সাথে উন্নতি হবে।
প্রিমিয়ার লিগের গতি, তীব্রতা এবং শারীরিক চাহিদা উইলটেমেডের জন্য নতুন ধাপের চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। হোউ বলেন, “প্রিমিয়ার লিগের গতি, তীব্রতা এবং শারীরিকতা অন্য কোনো লিগের তুলনায় বেশি।” এই শর্তগুলোতে খেলোয়াড়কে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়, নতুবা পারফরম্যান্সে পতন দেখা যায়। কোচের মতে, এই শর্তগুলোই উইলটেমেডের গোলহীন সময়ের মূল কারণ।
প্রতিপক্ষ দলগুলোও উইলটেমেডের খেলা বিশ্লেষণ করে তার দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। হোউ উল্লেখ করেন, “দলগুলো তার গেম বুঝতে শুরু করেছে, তাই তাকে নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা জানার পরই তাকে বিকল্প কৌশল গড়ে তুলতে হবে।” এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়ের মানসিক দৃঢ়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
হোউ উইলটেমেডের মনোভাবের প্রশংসা না ভুলে যান; তিনি বলেন, “খেলোয়াড়টি চমৎকার মনোভাব ও কাজের পদ্ধতি দেখিয়েছে।” কোচের মতে, ইতিবাচক মনোভাবই তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মনোভাবই তাকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করবে।”
নিউক্যাসল শীঘ্রই ব্রেন্টফোর্ডের মুখোমুখি হবে, যেটি টেবিলে সপ্তম স্থানে রয়েছে এবং নিউক্যাসলের চেয়ে চার পয়েন্ট উপরে। এই ম্যাচটি নিউক্যাসলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দলকে টেবিলের অবস্থান উন্নত করার সুযোগ দেবে। হোউ আশা প্রকাশ করেন, “ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে নিউক্যাসল লিগ কাপের সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির হাতে ৫-১ সমষ্টিগত স্কোরে পরাজিত হয়, যা ৭০ বছর পর প্রথম বড় দেশীয় ট্রফি রক্ষা শেষ করে। এই পরাজয়টি দলের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে এবং হোউয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে অনুমান উত্থাপিত হয়েছে। তবে কোচের অবস্থান এখনো স্থিতিশীল, কারণ ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমর্থন দৃঢ়।
সেমিফাইনাল পরাজয়ের পরেও নিউক্যাসল শীর্ষ পাঁচের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে; তারা এখনো শীর্ষ পাঁচের থেকে মাত্র সাত পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। এই পার্থক্যটি দলকে এখনও চ্যাম্পিয়নশিপ রেসে সক্রিয় রাখে। হোউ উল্লেখ করেন, “আমরা শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য এখনও পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছি।”
নিউক্যাসল ইউরোপীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে অংশ নিতে যাচ্ছে; তারা আজারবাইজানীয় দল কারাবাগের সঙ্গে দুই ম্যাচের দ্বিগুণ লড়াইয়ে জড়িত। এই লড়াইয়ের ফলাফল দলকে গ্রুপ স্টেজে স্থান নিশ্চিত করবে। হোউ এই সুযোগকে দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
সারসংক্ষেপে, হোউ ভক্তদের কাছে বারবার ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং উইলটেমেডকে তার গেমে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। কোচের মতে, ইতিবাচক মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রমই দলের ভবিষ্যৎ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নিউক্যাসল শীঘ্রই ব্রেন্টফোর্ডের মুখোমুখি হবে এবং ইউরোপীয় লিগে অগ্রসর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে।



