17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানকিছু গুঁদো পোকা ডিমের তাপমাত্রা কমাতে গভীর গর্ত খনন করে

কিছু গুঁদো পোকা ডিমের তাপমাত্রা কমাতে গভীর গর্ত খনন করে

দক্ষিণ আফ্রিকার শুষ্ক সমভূমিতে বসবাসকারী কিছু গুঁদো পোকা ডিমের বিকাশের জন্য মাটির গভীরে গর্ত খনন করে তাপমাত্রা কম রাখে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পোকাগুলো ডিম পাড়ার পরই মাটিতে সরাসরি একটি উল্লম্ব গর্ত তৈরি করে, যা ডিমকে পরিবেশের গরম থেকে রক্ষা করে। এই আচরণটি বিশেষভাবে গরমের ঋতুতে লক্ষ্য করা গেছে, যখন পৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে।

পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে, পোকাগুলো গর্তের গভীরতা কয়েক সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। গর্তের তলায় তাপমাত্রা পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে, যা ডিমের বিকাশের জন্য উপযোগী শর্ত তৈরি করে। গবেষকরা গর্তের তাপমাত্রা এবং ডিমের অঙ্কুরণ হার তুলনা করে দেখেছেন, গভীর গর্তে ডিমের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এই পদ্ধতি গুঁদো পোকার মধ্যে তুলনামূলকভাবে নতুন বলে বিবেচিত হয়। পূর্বে জানা গাছের নিচে বা পৃষ্ঠে ডিম পাড়ার পদ্ধতি অধিক প্রচলিত ছিল, যেখানে তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব বেশি দেখা যায়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির গভীরে গর্ত খনন করা পোকাগুলো তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম, ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকে।

গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কয়েকটি প্রজাতির গুঁদো পোকা নির্বাচন করে তাদের ডিম পাড়ার সময় গর্তের গঠন পর্যবেক্ষণ করেন। মাটির তাপমাত্রা রেকর্ড করার জন্য সেন্সর স্থাপন করা হয় এবং ডিমের বিকাশের পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল দেখায়, গর্তের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের বিকাশের সময়সীমা সামান্য কমে, যা পোকার জন্য একটি সুবিধা।

এই আচরণটি গরমের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে পোকাগুলোর অভিযোজনের একটি উদাহরণ। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে, মাটির গভীরে ডিম পাড়ার পদ্ধতি পোকার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, মাটির আর্দ্রতা এবং পুষ্টি স্তরও ডিমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই শুধুমাত্র তাপমাত্রা নয়, অন্যান্য পরিবেশগত উপাদানও বিবেচনা করা দরকার।

এই গবেষণার ফলাফল সাইন্স নিউজ-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং ইকোলজি ও ইনসেক্টোলজি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পোকা-প্রেমী এবং কৃষি গবেষকরা এখন গুঁদো পোকার এই নতুন আচরণকে বিবেচনা করে তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, গরুর মল সংগ্রহের স্থানকে এমনভাবে সাজানো যেতে পারে যাতে পোকাগুলো সহজে গর্ত খনন করতে পারে এবং ডিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

সামগ্রিকভাবে, গুঁদো পোকার এই গভীর গর্ত খনন করা আচরণ তাদের বংশবৃদ্ধি রক্ষায় একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই পদ্ধতির জেনেটিক ভিত্তি এবং অন্যান্য প্রজাতিতে এর প্রয়োগযোগ্যতা পরীক্ষা করতে পারে। পাঠকরা যদি গুঁদো পোকা এবং তাদের পরিবেশগত ভূমিকা সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে স্থানীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা উপকারী হতে পারে।

আপনার এলাকায় গুঁদো পোকা দেখা গেলে, তাদের গর্তে হস্তক্ষেপ না করে স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ করতে দিন; এটি পরিবেশের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments