গাম রোগের একটি ব্যাকটেরিয়া ইঁদুরে ক্যান্সার টিউমার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। গবেষণাটি সাইন্স নিউজে প্রকাশিত হয় এবং মাউস মডেলে গামের ব্যাকটেরিয়া ও ক্যান্সার কোষের পারস্পরিক ক্রিয়া পরীক্ষা করেছে।
গবেষকরা মুখের গামের রোগে সাধারণত পাওয়া ফুসোব্যাকটেরিয়াম নিউক্লিয়াটাম (Fusobacterium nucleatum) ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মাউসের কোলোরেক্টাল ক্যান্সার কোষের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ব্যাকটেরিয়া যুক্ত মাউসের টিউমার আকার নিয়ন্ত্রণ গ্রুপের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় ছিল।
বিশেষ করে, ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগের পর টিউমার ওজন গড়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টিউমার কোষের বিভাজন হারও বাড়ে দেখা গেছে। একই সময়ে, টিউমারের আশেপাশের ইমিউন কোষের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে, যা ক্যান্সার বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ব্যাকটেরিয়া দমন করা হলে টিউমার বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষকরা দেখেছেন যে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা গ্রহণকারী মাউসের টিউমার আকার প্রায় অর্ধেক কমে এবং ইমিউন কোষের সক্রিয়তা পুনরুদ্ধার হয়।
এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত করে যে গাম রোগের ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে এবং ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে টিউমারকে রক্ষা করে। যদিও গবেষণাটি মাউস মডেলে করা হয়েছে, তবে মানবদেহে একই প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে এমন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান দায়িত্বশীল বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে গামের স্বাস্থ্য বজায় রাখা কেবল দাঁত ও মাড়ির জন্য নয়, বরং ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গাম রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
অধিকন্তু, গবেষণায় দেখা গেছে যে গাম রোগের ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে দূরবর্তী অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া যদি কোলোরেক্টাল টিস্যুতে পৌঁছে যায়, তবে তা টিউমার গঠনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ফলাফল নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, গামের ব্যাকটেরিয়া এবং ক্যান্সারের সংযোগ আরও গবেষণার প্রয়োজন, বিশেষ করে মানব ক্লিনিক্যাল ডেটা দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
এই গবেষণার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে গাম রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গামের ব্যাকটেরিয়া সনাক্তকরণে উন্নত ডায়াগনস্টিক টেস্ট তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, গাম রোগের ব্যাকটেরিয়া এবং ক্যান্সার বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্কের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও মানবদেহে সরাসরি প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা দরকার, তবে গামের স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
পাঠকদের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে নিয়মিত ডেন্টাল চেক-আপ এবং গাম পরিষ্কারের মাধ্যমে গাম রোগের ঝুঁকি কমানো। গামের রক্তস্রাব, ফোলা বা ব্যথা হলে দ্রুত দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এভাবে গামের স্বাস্থ্য বজায় রেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।



