17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষা৪৪তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার প্রথম স্থানধারী শামীম শাহরিয়ার গেজেটে বাদ

৪৪তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার প্রথম স্থানধারী শামীম শাহরিয়ার গেজেটে বাদ

৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর, পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জনকারী শামীম শাহরিয়ার গেজেটের তালিকা থেকে অনুপস্থিত দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৩০ জুন রাত ১১ টার দিকে ফলাফল প্রকাশ করেছিল, যেখানে তিনি প্রথম স্থানে ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম পাওয়া যায়নি, ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

শামীম শাহরিয়ার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কে-৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফলাফল প্রকাশের মুহূর্তে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার পাশাপাশি এমআরসিপি পার্ট‑১ পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন, যা তার চিকিৎসা পেশার যোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে।

শিক্ষা জীবনের সূচনা তিনি রাজধানীর সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে করেন, যেখানে এসএসসি পাশ করেন। এরপর নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করেন, এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শিখতে শুরু করেন। তার একাডেমিক রেকর্ড ও পেশাগত অভিজ্ঞতা উভয়ই উচ্চমানের বলে বিবেচিত হয়।

পিএসসি কর্তৃক ৩০ জুনের ফলাফল প্রকাশের পর শামীমের নাম প্রথম স্থানে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, যা বহু প্রার্থীর মধ্যে তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে স্বীকৃত হয়। তবে গেজেটের চূড়ান্ত সংস্করণে নাম না থাকায়, প্রার্থীর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত গোষ্ঠী থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, নাম বাদ পড়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে কি না, নাকি প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি ঘটেছে। এখন পর্যন্ত পিএসসি বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া সাধারণত স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলাফল গেজেটের মাধ্যমে সরকারীভাবে প্রকাশিত হলে তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়, এবং প্রার্থীর নাম গেজেটে না থাকলে তা স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচিত পদে অধিকারকে বাতিল করে দেয়। তাই গেজেটের এই পরিবর্তনটি প্রার্থীর জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উচ্চমানের পেশাজীবী হিসেবে শামীমের প্রোফাইল, তার মেডিক্যাল অফিসার পদ ও এমআরসিপি পার্ট‑১ সম্পন্ন করা, তাকে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যবান করে তুলতে পারে। তবে গেজেটের এই বাদ পড়া তার ক্যারিয়ারের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে পররাষ্ট্র ক্যাডার মতো প্রতিযোগিতামূলক সেক্টরে।

এই পরিস্থিতি থেকে দেখা যায়, সরকারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর গেজেটের চূড়ান্ত রূপে কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীরা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে অনিশ্চয়তা ও অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ কমে।

প্রতিটি প্রার্থীর জন্য পরামর্শ দেওয়া যায় যে, গেজেট প্রকাশের পর যদি কোনো অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন, তবে সংশ্লিষ্ট অফিসে লিখিত আবেদন করে স্পষ্টিকরণ চাওয়া উচিত। এছাড়া, ফলাফল সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সমস্যার মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।

আপনার মতামত কী? গেজেটের এই ধরনের পরিবর্তন সম্পর্কে আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ আশা করেন? মন্তব্যে আপনার ধারণা শেয়ার করুন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments