বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজ’ কর্মসূচি চালায়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ বলে সমালোচনা করে, এবং লিজ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত উল্লেখ করেন, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগে সরকার অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়, যেন লিজ না হলে সরকারের মিশন ভিশন ব্যর্থ হবে।
রাহাত আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে চারজন ব্যক্তি বিদেশি কোম্পানির কমিশন পেতে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে লিজের অনুমোদন চাইছেন। তিনি বলেন, এই চারজন চট্টগ্রাম বন্দর লিজের জন্য বিভিন্ন লবিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা দেশের স্বার্থের বিপরীতে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী উল্লেখ করেন, লিজের বিষয় কেবল বন্দর নয়, পাহাড়ের ভূমি ও পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, যদি লিজ অনুমোদিত হয়, তবে পাহাড়ের ভূমি হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুন্ন হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট: দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর করলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দুর্বল হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, এনসিটি ইজারা পরিকল্পনা বাতিল না হলে প্রতিবাদ আরও তীব্র হবে এবং অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, লিজের শর্তাবলী ও আর্থিক শর্তাবলী জনসাধারণের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা সরকারকে লিজ প্রক্রিয়ার সকল নথি প্রকাশের আহ্বান জানায়, যাতে জনমত গঠন করা যায়।
অধিকন্তু, শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, লিজের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে দেশের কাস্টমস, ট্যাক্স ও রেভিনিউ সিস্টেমে প্রভাব পড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
প্রতিবাদে উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থী বলেন, লিজের অনুমোদন পেলে চট্টগ্রাম বন্দর ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের কর্মসংস্থান ও মুনাফা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের হাতে চলে যাবে, যা দেশের কর্মসংস্থান নীতি ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সাথে বিরোধপূর্ণ।
প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেন, লিজের শর্তে কোনো জাতীয় নিরাপত্তা বা কৌশলগত বিবেচনা করা হয়নি, ফলে দেশের কৌশলগত অবকাঠামো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার লিজ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলি বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে লিজের অনুমোদন না হলে আরও বৃহত্তর প্রতিবাদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সংরক্ষণে জনমতকে কেন্দ্রে রেখে নীতি নির্ধারণ করা উচিত।
এই প্রতিবাদে ব্যবহৃত কুশপুত্তলিকাগুলি সরকারী কর্মকর্তাদের চিত্রায়িত করে তৈরি করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা দাবির প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
প্রতিবাদে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, লিজের অনুমোদন না হলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে শিক্ষার্থীরা লিজের বিরোধিতা করে আরও একাধিক ক্যাম্পাসে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।



