এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান ৬০ মিটার স্প্রিন্টে ফাইনালে স্থান পেতে পারেননি। সেমিফাইনালে তিনি মাত্র একশো এক মিলিসেকেন্ডের পার্থক্যে শেষ হয়ে গেলেন, ফলে ফাইনালের তালিকায় নাম লেখাতে ব্যর্থ হলেন।
প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে মোট তিনটি হিট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি হিটের শীর্ষ দুইজন দৌড়বিদ সরাসরি ফাইনালে অগ্রসর হন, আর বাকি হিটের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দুইটি দ্রুততম সময়ও ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়। ইমরানুর রহমান প্রাথমিক রাউন্ডে ৬.৭৩ সেকেন্ডের টাইমিং করে সেমিফাইনালে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেন।
সেমিফাইনালে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা ধীর হয়। নিজের হিটে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন, ফলে ফাইনালে অগ্রসর হতে অন্য দুই হিটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে অন্য হিটের শীর্ষ দৌড়বিদদের ফলাফল ইমরানের পক্ষে না গিয়ে, তিনি ফাইনালের দৌড়ের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
চীনের জিন জিয়ান তার হিটে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ৬.৭৪ সেকেন্ডের টাইমিং করেন এবং মোট আটটি দ্রুততম দৌড়বিদের মধ্যে অষ্টম স্থান পেয়ে ফাইনালে স্থান পায়। ইমরানুর রহমানের টাইম ৬.৭৫ সেকেন্ডের কাছাকাছি, ফলে মাত্র ০.০১ সেকেন্ডের পার্থক্যে তিনি সেমিফাইনাল থেকেই বাদ পড়েন।
ইমরানুর রহমান ২০২৩ সালে কাজাখস্তানে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে ৬.৫৯ সেকেন্ডের রেকর্ডে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত। এইবারের প্রতিযোগিতায় তিনি দীর্ঘ দুই বছর আন্তর্জাতিক দৌড়ের বাইরে ছিলেন, যা তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
প্রতিযোগিতার শেষে ইমরানুর রহমান ফেডারেশনকে একটি বার্তা পাঠান, যেখানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে তিনি ফাইনালে পৌঁছাতে পারেননি এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত। তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিনিধিত্বকারী কেবল একজন অ্যাথলেট ছিলেন, এবং তিনি ইমরানুর রহমান। তাই এই এডিশনে দেশের কোনো পদক অর্জন হয়নি। তবে ইমরানের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও প্রতিভা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
পরবর্তী এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে বাংলাদেশি দৌড়বিদদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইমরানুর রহমানের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে দেশের ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
এই প্রতিযোগিতার ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, সেমিফাইনালের প্রতিটি হিটের পারফরম্যান্স ফাইনালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এক সেকেন্ডেরও কম পার্থক্য ফলাফলকে বদলে দিতে পারে। ইমরানুর রহমানের মতো শীর্ষ দৌড়বিদদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনই মূল চাবিকাঠি।



