শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষিত হয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, যমুনা দিকের ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ঘটিত হামলার প্রতিবাদে বিপ্লব উদ্যানের ২ নম্বর গেটের সামনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সমাবেশ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে জড়িতদের বিচারের দাবি তুলে ধরা।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জাবেরসহ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশি আক্রমণের পর সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি চালাবে। পোস্টে নির্দিষ্ট সময় ও স্থান উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সমর্থক ও কর্মীরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি প্রকাশ করতে পারে।
বিপ্লব উদ্যানের ২ নম্বর গেটের সামনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই স্থানটি পূর্বে রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উঁচু। সংগঠনটি এই সমাবেশকে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ঘটিত ঘটনাটি বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটেছিল, যখন নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করছিল। পথের মাঝখানে ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
পুলিশের মতে, ব্যারিকেড ভাঙার প্রচেষ্টা এবং অশান্তি রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি করে, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সূত্রে জানানো হয়েছে, জাবের গুলিবিদ্ধ হয় বলে দাবি করা হয়েছে এবং ডাকসু নেত্রী জুমা, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে হাসপাতালের ইনচার্জ মো. ফারুকের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে গুলিবিদ্ধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে গুলি-আঘাতের চিহ্ন নেই, বরং জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের প্রভাব দেখা গেছে।
হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা চলছে। গুলিবিদ্ধের দাবি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে, যা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবি পুনরায় তুলে ধরবে। তারা আশা করে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে যে দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্র করবে। যদি সরকার যথাযথ তদন্তে সাড়া না দেয়, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থনও বাড়তে পারে। তাই পরবর্তী দিনগুলোতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।



