মার্কিন সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী শাখা, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে, গত বৃহস্পতিবার সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ পরিবর্তন হিসেবে প্রায় ৫০,০০০ সরকারি কর্মীর নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে স্থানান্তর করার নীতি প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি সরকারি নীতিতে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের চাকরির সুরক্ষা হ্রাসের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) নতুন নীতিমালা প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, এখন থেকে প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মীদের উপর সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। নতুন বিধান অনুসারে, যদি কোনো কর্মী প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বা আদেশের বিরোধিতা করে, তবে তাকে শিডিউল এফ (Schedule F) বিভাগে স্থানান্তর করা হবে এবং তার চাকরির সুরক্ষা হ্রাস পাবে।
ওপিএমের প্রকাশিত নীতিতে শিডিউল এফের অধীনে অন্তর্ভুক্ত কর্মীদের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি বলে অনুমান করা হয়েছে। এই কর্মীরা মূলত নীতি-নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব রাখে এমন পদে কর্মরত, এবং তাদের কর্মক্ষমতা যদি প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারকে বাধা দেয় বলে বিবেচিত হয়, তবে নতুন নিয়মের আওতায় তারা নিয়োগ বা বরখাস্তের ঝুঁকিতে থাকবে।
শীর্ষ মানবসম্পদ কর্মকর্তা স্কট কুপো উল্লেখ করেন, যদি কর্মীরা প্রশাসনের বৈধ লক্ষ্য ও আদেশ অনুসরণে অস্বীকার করে, তবে সংস্থার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তার মতে, শিডিউল এফের মাধ্যমে কর্মীদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং প্রশাসনের কার্যকরী ক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নতুন নীতির প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মী ইউনিয়নগুলো আইনি বাধা জানিয়ে দেয়। গত জানুয়ারিতে, ইউনিয়নগুলো নীতির চূড়ান্ত হওয়ার আগে আদালতে মামলা দায়ের করে, যা আদালত নীতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখে। এই আইনি চ্যালেঞ্জের ফলে নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থেমে যায়।
ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের প্রতিনিধি স্কাই পেরিমান জানান, আদালতে শীঘ্রই মামলার কার্যক্রম শুরু হবে এবং তারা এই অবৈধ নীতি রোধে আইনি পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সব উপলব্ধ আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে।
নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষার পরিবর্তন। পূর্বে, সরকারি সংস্থার ভিতরে অনিয়ম ফাঁস করা কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান করার দায়িত্ব ‘অফিস অব দ্য স্পেশাল কাউন্সিল’ নামক স্বাধীন সংস্থার ওপর ছিল। নতুন নীতিতে এই দায়িত্ব সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এর ফলে, সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক অপচয় বা অন্য কোনো অবৈধ কাজের অভিযোগ উঠলে সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। এই পরিবর্তনটি হুইসেলব্লোয়ারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এখন সুরক্ষা প্রদানকারী সংস্থা নিজেই অভিযোগের বিষয় হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শিডিউল এফের বাস্তবায়ন সিভিল সার্ভিসের স্বায়ত্তশাসনকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর নীতি কার্যকর হবে কিনা তা নির্ধারণ হবে, তবে রাজনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপটি মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। ভবিষ্যতে আদালতের রায়, ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া এবং প্রেসিডেন্টের আরও কোনো সংশোধনী নীতি এই পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



