ন্যাহিদ ইসলাম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) সমন্বয়কারী, শাবিরবাগের মাতৃবাগান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ এমন নেতাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে গেছে, যারা বহু বছর বিদেশে বসবাসের ফলে দেশের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।
র্যালির সূচনায় তিনি উল্লেখ করেন, একটি বড় জোটের অধীনে প্রধান দল অন্যান্য দলকে একীভূত করে বহু পার্টির গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি বলেন, ঐ দলের নেতা ও কর্মীরা ঘুরে বেড়িয়ে হুমকি দিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে।
ন্যাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ঐ দলের নেতা যখন দেশে ফিরে “একটি পরিকল্পনা” উপস্থাপন করেন, তখনই তাকে স্বাগত জানানো হয়। তবে তিনি যুক্তি দেন, সেই নেতা দেশের মৌলিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ, যেমন চিনি কারখানার অবস্থান, এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (EPZ) স্থান, বাণিজ্যিক রাজধানী কোন শহর, এবং সয়াবিন ও ভুট্টার চাষের এলাকা। এসব মৌলিক তথ্য না জানলে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো পরিকল্পনা যা বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে দেবে, তা করা উচিত নয়। তিনি ফ্যাসিস্ট পুনরুদ্ধার বা আধিপত্যমূলক রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো প্রচেষ্টা বিরোধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং বলছেন, তার দল এমন কোনো পরিকল্পনাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করবে।
ন্যাহিদ ইসলাম ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, যারা ভোট গড়া, ভোট কেন্দ্র দখল করা বা অন্য কোনো ধরণের জালিয়াতি করবে, তাদেরকে ফ্যাসিস্টদের মতোই কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তার মতে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।
অধিকন্তু, তিনি বর্তমান অস্থায়ী সরকারের ওপর সমালোচনা তীব্রভাবে তুলে ধরেন, যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির বিচারের ব্যবস্থা করেনি এবং হত্যাকাণ্ডে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেনি। তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচার না হলে দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ১১ পার্টির জোটের ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলায় আমীর মাওলানা দেলওয়ার হোসেন এবং সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসেন। তাদের উপস্থিতি র্যালির রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ন্যাহিদ ইসলামের এই র্যালি এবং তার উক্তিগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তিনি যে সমালোচনা ও সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, তা ভোটের আগে পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের র্যালি ও বক্তৃতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।



