21 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনএলটন জন ও ডেভিড ফার্নিশ দৈনিক মেইলকে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য মামলা করেছেন

এলটন জন ও ডেভিড ফার্নিশ দৈনিক মেইলকে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য মামলা করেছেন

ব্রিটিশ গায়ক-গীতিকার স্যার এলটন জন এবং তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ লন্ডনের হাই কোর্টে দৈনিক মেইল ও মেইল অন সানডে প্রকাশকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। উভয়জনের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারি, এলিজাবেথ হার্লি এবং ডোরিন লরেন্সের মতো সাতজন ব্যক্তি এই মামলায় যুক্ত।

মামলার মূল অভিযোগ হল ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত দশটি সংবাদপত্রের নিবন্ধে এলটন জনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং তার পুত্র জ্যাকারির জন্মের বিশদ গোপনীয়তা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশক, অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারস লিমিটেড (এএনএল), এসব অভিযোগের কোনো বৈধতা নেই বলে অস্বীকার করেছে।

হাই কোর্টে শোনানো সাক্ষ্যবিবরণীতে এলটন জন প্রকাশের পদ্ধতিকে “অত্যন্ত অসুস্থকর” এবং “মানবিক মর্যাদার মৌলিক মানদণ্ডের বাইরে” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালের বেডে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের অনধিকৃত প্রবেশের ফলে তার এবং তার পরিবারের গোপনীয়তা গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

সাক্ষ্যবিবরণীর সময় তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তিনি সবুজ স্যুট, নীল শার্ট ও টাই পরিহিত ছিলেন। তার বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গানের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পরেও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করার অধিকার অস্বীকার করা যায় না। তিনি গোপনীয় তথ্যের শোষণকে “ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং সম্পর্কের শোষণ” হিসেবে উল্লেখ করে তার নিন্দা প্রকাশ করেন।

এলটন জনের মতে, এই ধরনের গোপনীয়তা লঙ্ঘন তাদের জন্য অদৃশ্য ছিল, ফলে তিনি ও ফার্নিশ তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করতে পারেননি। তবে, প্রকাশিত নিবন্ধগুলো তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গভীর দিকগুলোকে উন্মোচন করেছে, যা তিনি “অসহনীয়” বলে উল্লেখ করেন।

মামলায় যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিরা, যেমন প্রিন্স হ্যারি এবং ডোরিন লরেন্স, একই ধরনের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। তাদের সম্মিলিতভাবে এএনএলকে আদালতে আনা হয়েছে, যেখানে তারা প্রকাশকের প্রতি “অত্যন্ত রাগ” ও “অসন্তোষ” প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্নোত্তর সেশনে এএনএলের প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাটরিন ইভান্স কেএসি জিজ্ঞাসা করেন, প্রকাশিত সময়ে অভিযোগ না করা সত্যি কিনা। তার উত্তরে এলটন জন জানান, তিনি ও ফার্নিশ তখন কোনো অভিযোগ করেননি, তবে পরবর্তীতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পরিমাণ ও প্রভাব বুঝে তারা আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই মামলাটি গোপনীয়তা রক্ষার জন্য মিডিয়ার দায়িত্ব ও সীমা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এএনএলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সমঝোতা বা ক্ষমা চাওয়া হয়নি, এবং আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এলটন জনের এই আইনি পদক্ষেপের পেছনে তার এবং ফার্নিশের গোপনীয়তা রক্ষার দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট। তারা উল্লেখ করেন, গোপনীয় তথ্যের অযথা প্রকাশ তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা ভবিষ্যতে এধরনের অনধিকৃত প্রকাশ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

মামলাটি গোপনীয়তা সংরক্ষণ, মিডিয়া নৈতিকতা এবং পাবলিক ফিগারদের ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের রায় গৃহীত হলে, তা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং মিডিয়া সংস্থাগুলোর গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments