ডেনমার্কের পরিচালক ক্রিস্টোফার বোয়ের নতুন চলচ্চিত্র ‘স্পেশাল ইউনিট – দ্য ফার্স্ট মর্ডার’ (ড্যানিশে Rejseholdet – Det første mord) এই বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত হয়েছে। ছবিটি ১৯২৭ সালে গঠিত ড্যানিশ ফেডারেল তদন্ত ইউনিটের প্রথম মামলাকে আধুনিক সিনেমাটিক শৈলীতে উপস্থাপন করে।
স্থানীয় বাজারে ছবিটি চমৎকার সাড়া পেয়েছে; গত বছর ডেনমার্কের ঘরে ঘরে প্রদর্শিত হয়ে পাঁচ নম্বর বৃহত্তম দেশীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পায়। টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান দেখায় যে, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়েছে এবং বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছবিটি রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (IFFR) পঞ্চান্নতম সংস্করণের লিমলাইট বিভাগে প্রদর্শিত হয়। এই বিভাগটি বিশ্বব্যাপী স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত, যেখানে ‘স্পেশাল ইউনিট’ তার সূক্ষ্ম গল্প বলার কৌশল ও ঐতিহাসিক পটভূমির জন্য প্রশংসা পেয়েছে।
উদ্যোগটি এখন স্পেন, ফ্রান্স এবং ইউক্রেনের মতো নতুন বাজারে বিক্রি হয়েছে। স্পেনের Filmin, ফ্রান্সের Family Films এবং ইউক্রেনের Svoe Kino যথাক্রমে ছবির অধিকার অর্জন করেছে, যা ডেনমার্কের বাইরে দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চিত্রনাট্যটি বো এবং লাসে কায়েড রাসমুসেনের যৌথ রচনা, যেখানে প্রধান ভূমিকায় অ্যালেক্স হোগ অ্যান্ডারসেন, ম্যাথিল্ড আরসেল এবং নিকোলাজ কোপার্নিকাস অভিনয় করেছেন। অ্যান্ডারসেনের চরিত্র, ওটো হিমেলস্ট্রুপ, ইউনিটের প্রথম প্রধান হিসেবে ছবির কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে। আরসেল ও কোপার্নিকাস যথাক্রমে ক্যামিলা ও পিআর হিসেবে তার সহকর্মীকে উপস্থাপন করেন।
‘রিগস্পোলিটিটস রেজেহোল্ড’ নামে পরিচিত এই বিশেষ তদন্ত ইউনিটটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০২ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন পুলিশ বিভাগের জটিল মামলায় সহায়তা করে আসছে। ইউনিটের কাজের গোপনীয়তা ও উচ্চ দক্ষতা ডেনমার্কের আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
অ্যান্ডারসেনের চরিত্র ওটো হিমেলস্ট্রুপের নেতৃত্বে দলটি প্রথম মিশন হিসেবে ইসবেজের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে। এখানে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক শক্তিশালী গোষ্ঠী গোপন হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। ছবিটি এই গোপন পরিকল্পনা ও তদন্তের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ দ্বন্দ্বকে দৃশ্যমান করে।
ডেনমার্কের টেলিভিশন জগতে এই ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে ২০০০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত একটি সিরিজ তৈরি হয়েছিল, যেখানে মাডস মিকেলসেন প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে একই বিষয়ের ওপর আরেকটি সিরিজ তৈরি হয়, যা ইউনিটের জনপ্রিয়তা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
বো বর্তমানে ছবির দ্বিতীয় অংশের প্রস্তুতিতে আছেন এবং প্রথম অংশের গল্পকে ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছেন। নতুন অংশে দলটি অন্য একটি বন্দর শহরে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে আরও জটিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের উদ্ভবের ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রচারমূলক ট্রেলার ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গোপন তদন্ত, তীব্র অ্যাকশন এবং ঐতিহাসিক পরিবেশের সমন্বয় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। দর্শকরা ট্রেইলারে ইউনিটের কাজের পদ্ধতি ও ডেনমার্কের পুরনো শহরের রঙিন দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
বো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অতীতের অপরাধ নাটককে আধুনিক সিনেমাটিক ভাষায় উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যাতে নতুন প্রজন্মের দর্শকরা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সমসাময়িক বিনোদনের সংযোগ অনুভব করতে পারে। তিনি ভবিষ্যতে আরও সিরিজ ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই ইউনিটের গল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
‘স্পেশাল ইউনিট – দ্য ফার্স্ট মর্ডার’ ডেনমার্কের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তার সাফল্য দেশের সৃজনশীল শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। আগামি মাসে নতুন বাজারে মুক্তি ও সিক্যুয়েল প্রকাশের প্রত্যাশা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।



