শুক্রবার বিকেল প্রায় চারটায় ঢাকা শহরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা দিকের পথে অগ্রসর হতে চাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। শ্রীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটি প্রতিবাদে নেমে আসার পর এই সংঘর্ষ ঘটে। ফলে সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্ব শ্রীফ ওসমান হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চায় এবং তার বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এই দাবির সঙ্গে সঙ্গে দলটি সরকারকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।
সংঘর্ষের সময় পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হতে চাওয়া কর্মীদের ওপর চড়াই-চড়াই শুরু করে। লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ বাড়ে। একই সঙ্গে প্রতিবাদকারীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড থেকে বের হওয়া স্প্লিন্টার আঘাতের ফলে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরও অন্তর্ভুক্ত, যাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুকের মতে, মোট তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়, তবে লাঠি ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে উপস্থিত কিছু স্বেচ্ছাসেবকও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার জন্য পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা বাধ্য হয়ে ব্যারিকেড ভাঙা কর্মীদের ওপর চড়াই-চড়াই চালায়। তারা উল্লেখ করেছে, সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল অশান্তি দমন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।
সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত কয়েকজন নাগরিক জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ থেকে ধোঁয়া ও শোরগোলের মধ্যে তারা হঠাৎই লাঠি ও গ্যাসের মুখোমুখি হয়। তারা বলেন, কিছু কর্মী গ্যাসের শ্বাসে বমি বমি অনুভব করে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইনকিলাব মঞ্চের এই প্রতিবাদ সরকারের নিরাপত্তা নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে বাধ্য করবে। শ্রীফ ওসমান হাদির মামলায় দ্রুত বিচার না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বের মতে, আহত কর্মীদের দ্রুত সেরে উঠার পর তারা আবারও শান্তিপূর্ণ পথে দাবি উপস্থাপন করবে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে, গুলিবিদ্ধ না হলেও শারীরিক আঘাতের ফলে তাদের আন্দোলনের গতি ধীর হতে পারে।
অধিক তথ্য পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেট জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক মোড়ের সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।



