বেঞ্জামিন ওয়েগ‑প্রসার গ্লোবাল কাউন্সেল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শুক্রবার তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এপস্টেইন ফাইলের তথ্য প্রকাশের পর কোম্পানি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার ম্যান্ডেলসনের মধ্যে সংযোগ প্রকাশিত হওয়ায় ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গ্লোবাল কাউন্সেল ২০১০ সালের লেবার পার্টির পারাজয়ের পর পিটার ম্যান্ডেলসন এবং ওয়েগ‑প্রসার একত্রে প্রতিষ্ঠা করেন। লবিং সেক্টরে উচ্চপ্রোফাইল ফার্ম হিসেবে এটি শেল এবং টিকটকসহ বড় কর্পোরেশনের সঙ্গে কাজ করে আসছে।
জেফ্রি এপস্টেইন ফাইলের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে গ্লোবাল কাউন্সেল ও ম্যান্ডেলসনের মধ্যে অতীতের কিছু সংযোগ রয়েছে, যা প্রকাশের পর ক্লায়েন্ট ও বাজারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফাইলের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানির কিছু লেনদেন ও নেটওয়ার্কে অপরাধী ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।
ওয়েগ‑প্রসার এই পরিস্থিতিতে কোনো অবৈধ কাজের স্বীকারোক্তি না দিয়ে, ব্যবসার স্বার্থে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভুল করেননি বলে জোর দেন, তবে সংস্থার সুনাম রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপটি প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেছেন।
পদত্যাগের পর কোম্পানির ওয়েবসাইটে ওয়েগ‑প্রসারের প্রোফাইল পৃষ্ঠা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি তার নেতৃত্বের সময়কালের তথ্যকে দ্রুত অপ্রাপ্য করে তুলেছে।
পিটার ম্যান্ডেলসন ২০২৪ সালে গ্লোবাল কাউন্সেল বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন, যা সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে ঘটেছিল। তার পদত্যাগের পেছনে একই এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের প্রভাব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বাজারে গ্লোবাল কাউন্সেলকে নিয়ে সুনামের ক্ষতি স্পষ্ট। শেল ও টিকটকসহ প্রধান ক্লায়েন্টদের সঙ্গে চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে লবিং সেবার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
লবিং শিল্পে এই ঘটনা সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য ফার্মগুলো এখন তাদের ক্লায়েন্ট তালিকা ও পার্টনারশিপের পটভূমি পুনরায় যাচাই করছে, এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির সম্ভাবনা বাড়ছে।
ভবিষ্যতে গ্লোবাল কাউন্সেলকে পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে নৈতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং এধরনের ঝুঁকি কমাতে অভ্যন্তরীণ নীতি শক্তিশালী করা প্রত্যাশিত।
সারসংক্ষেপে, ওয়েগ‑প্রসারের পদত্যাগ গ্লোবাল কাউন্সেলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনবে এবং লবিং সেক্টরে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার উপর জোর বাড়াবে। সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক কৌশল ও ক্লায়েন্ট সম্পর্কের উপর এই ঘটনা কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



