বিএনপি (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি) আজ ঢাকা শহরের সোনারগাঁও হোটেলে তার নতুন নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। পার্টি চেয়ারপার্সন তারিক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন এবং বিদেশি কূটনীতিক, সিনিয়র সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যানিফেস্টোর মূল লক্ষ্য হল ভোটের মর্যাদা রক্ষা, আইন শাসনের ন্যায়পরায়ণতা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।
উদ্বোধনী ভাষণে পার্টি “Bangladesh Before All” নীতিকে মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ন্যায়বিচারিক শাসন মডেলকে অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মতে, সরকারকে নাগরিকের কাছে সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান নীতি হিসেবে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, সংবিধান ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দশ বছরের সীমা আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, একাধিক মেয়াদে সেবা প্রদানকারী কোনো প্রধানমন্ত্রীই দশ বছরের বেশি সময়ে শাসন করতে পারবেন না, এবং তিনি পার্টির চেয়ারপার্সন হিসেবেও কাজ করতে পারবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ম্যানিফেস্টোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে, যা রাষ্ট্রের সন্ত্রাস, ভোটের জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের তদন্ত করবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
সামাজিক কল্যাণের দিক থেকে নিম্ন-আয়ের পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ বা প্রয়োজনীয় পণ্যের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানকারী “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করা হবে। কৃষকদের জন্য “ফার্মার্স কার্ড”ের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি, সাবসিডি, ঋণ, বীমা এবং রাষ্ট্র পরিচালিত বাজারের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই সুবিধা মাছ চাষ, পশুপালন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ১,০০,০০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গ্রাম ও শহরে সেবা পৌঁছানোর গতি বাড়াবে। জেলা ও মহানগর স্তরে চিকিৎসা সুবিধা ও হাসপাতালের অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে রোগীর সেবা মান উন্নত হয়।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও সংস্কার আনা হবে, যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা ম্যানিফেস্টোতে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পার্টি শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
বিএনপি ম্যানিফেস্টোর প্রকাশের পর প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এখনও কোনো মন্তব্য দেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই নীতি ও প্রতিশ্রুতিগুলি দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলতে পারে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, ম্যানিফেস্টোতে উল্লিখিত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আইনসভার সমর্থন ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হবে।
এই ম্যানিফেস্টো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে, যা দেশের শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য বলে পার্টি দাবি করে। ভবিষ্যতে ম্যানিফেস্টোর প্রতিটি ধাপের বাস্তবায়ন কিভাবে হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



