জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ‑মেলান্দহ) আসনে বিএনপি ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই গড়ে উঠেছে। দুই দলই মূল ভোটভিত্তি রক্ষার জন্য প্রচার চালাচ্ছে, আর অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে ভোটব্যাংক ভাগ হতে পারে বলে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিএনপি প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের নাম নিবন্ধিত হয়েছে। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলেছেন এবং স্থানীয় নেতারা তার পক্ষে ব্যাপক সমাবেশ, পথসভা ও ঘরোয়া বৈঠক চালাচ্ছেন।
বিএনপি দলের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমান শুভের উপস্থিতি ভোটব্যাংকে ফাটল তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শুভের সক্রিয় উপস্থিতি এবং তার সমর্থকদের সংখ্যা দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে ভোটের ভাগাভাগি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
উপজেলা স্তরে বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জরুল কাদের বাবুল খান এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের তদারকি করছেন। স্থানীয় নেতারা জানান, পূর্বের দলীয় কোন্দল বেশিরভাগই সমাধান হয়েছে এবং এখন অধিকাংশ নেতা বাবুলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার দৌলতুজ্জামান আনসারীও নির্দিষ্ট ভোটভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। আনসারীর প্রচারমূলক কার্যক্রম মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে তার সমর্থক গোষ্ঠী শক্তিশালী।
আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীর নামও তালিকায় রয়েছে। যদিও তিনি এলাকার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ততটা পরিচিত নন, তবে দলীয় প্রতীক হিসেবে তার উপস্থিতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।
মোট নয়টি প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের দৌলতুজ্জামান আনসারী, স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) সাদেকুর রহমান শুভ, জাতীয় পার্টির মীর সামছুল আলম লিপটন (লাঙল), ডা. ফিদেল নঈম (মাথাল), গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া (ট্রাক), শিবলুল বারী রাজু (সূর্যমুখী ফুল) এবং স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী ফারজানা ফরিদ পুঁথি (ফুটবল) অন্তর্ভুক্ত।
জামালপুর-৩ আসনটি মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত, মোট ২৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত। এখানে ১৫৪টি ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, যা নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রবেশের পরিসর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ্যভিত্তিক প্রচার উভয়ই এই আসনে ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। ভোটব্যাংক ভাঙনের সম্ভাবনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে উভয় দলের জন্য জয়লাভের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
প্রতিটি দলই এখন শেষ পর্যায়ের প্রচার চালাচ্ছে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল জামালপুর-৩ অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



