21 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ, পুলিশ‑বিরোধী প্রতিবাদে ঘটেছে ঘটনা

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ, পুলিশ‑বিরোধী প্রতিবাদে ঘটেছে ঘটনা

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, যখন মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন থেকে যমুনা দিকের পথে রওনা হন। প্রতিবাদকারীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ইউএন‑নির্দেশিত শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হতে চেয়েছিলেন।

পুলিশের উপস্থিতি সেই মুহূর্তে দৃশ্যকে তীব্র করে দেয়। প্রতিবাদকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় আল জাবেরও ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ছিলেন। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের কাছাকাছি, যখন দলটি যমুনা দিকের পথে অগ্রসর হচ্ছিল।

এই প্রতিবাদটি পূর্বের রাতে, ৫ ফেব্রুয়ারি, একই স্থানে শুরু হয়েছিল। সেই রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অংশগ্রহণকারীরা আলটিমেটাম দিয়ে ইউএন‑নির্দেশিত শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তের দাবি জানিয়ে যমুনার প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাতের পরেই পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র পরের দিন বিকেলে ঘটে।

আবদুল্লাহ আল জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকায়। আহতকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

পুলিশ ইতিমধ্যে গুলিবিদ্ধের জন্য FIR দায়ের করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে গুলি চালানো অস্ত্রের বেল্ট, গুলি, এবং গুলিবিদ্ধের কাছাকাছি পাওয়া ভিডিও রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিভিলি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুলিবিদ্ধের ঘটনা প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি পেতে পারে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩২৪ (গোলাবারুদ ব্যবহার) ও ধারা ৩২৫ (গোলাবারুদ দিয়ে গুলিবিদ্ধ করা) অনুসারে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। এছাড়া, জনসমাগমে অশান্তি সৃষ্টির জন্য ধারা ১৪৪ (অশান্তি সৃষ্টির অপরাধ) প্রয়োগ করা হতে পারে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি অনুযায়ী, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তে ইউএন‑নির্দেশিত স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি, ফলে তারা ন্যায়বিচারের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটায়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ (CID) একত্রে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গুলি চালানোর সময়ের ভিডিও রেকর্ডিং এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয় নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালানো হবে।

প্রাথমিক তদন্তের পর, মামলাটি জেলা আদালতে দাখিল হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালত প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারণের পর, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সমন্বয় করার সুযোগ দেওয়া হবে। মামলার অগ্রগতি ও শোনার তারিখ সম্পর্কে তথ্য আদালতের নোটিশে প্রকাশিত হবে।

এই ঘটনার পর, ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতারা গুলিবিদ্ধের শোক প্রকাশ করে এবং আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন যে, গুলিবিদ্ধের ঘটনা একটি রাজনৈতিক সহিংসতা, যা ন্যায়বিচার ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে, তারা পুলিশের অতিরিক্ত ব্যবহৃত জোরপূর্বক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সামগ্রিকভাবে, গুলিবিদ্ধের ঘটনা এবং প্রতিবাদে পুলিশের জোরপূর্বক পদক্ষেপ উভয়ই দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে এবং তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যগুলো সরকারি সূত্র, পুলিশ রিপোর্ট এবং现场 পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংকলিত। কোনো অনুমান বা অতিরিক্ত বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments