পাকিস্তান চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি চার দেশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব জানিয়েছে। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান ইস্লামাবাদে একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ যদি এই উদ্যোগে সম্মতি দেয়, তবে শীঘ্রই পাকিস্তানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রস্তাবটি জানুয়ারি শেষের দিকে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
গত ছয় মাস ধরে চীন সরকার বাংলাদেশকে আঞ্চলিক জোটের অংশ হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল। এক সময় পাকিস্তানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল চীন সরকার। তবে বাংলাদেশ সরকারের অনীহা শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি থেমে যায়। এই ব্যর্থতা পরবর্তী কূটনৈতিক চালচিত্রকে প্রভাবিত করেছে।
পাকিস্তান এখন নিজেই চার দেশের সমন্বয়ে একটি সহযোগিতা ফোরাম গড়ে তোলার জন্য বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছে। প্রস্তাবিত বৈঠকটি ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, এবং নির্বাচনের আগে ইস্লামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাকিস্তানের দৃষ্টিতে এই সময়সীমা আঞ্চলিক সংহতি বাড়ানোর উপযুক্ত মুহূর্ত। তবে নির্বাচনের দিনচিহ্ন নিকটবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়। তবে নির্বাচনের আগের সময়ে কোনো বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের প্রতি উন্মুক্ততা কমে গেছে। বিদেশী বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, নতুন সরকারের গঠন শেষ পর্যায়ে থাকায় বৈঠকটি পরবর্তী সরকার গঠনের পরই হতে পারে। এ কারণে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সূচিতে বৈঠকের পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং বাংলাদেশ সরকারের বিদেশী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে গত মাসে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনাগুলি বহুপক্ষীয় ফোরামের ফাঁকে এবং জানুয়ারি মাসে তিনটি ফোনালাপের মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটি সংযোগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও সমন্বয় সাধনের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। ইশাক দার তৌহিদ হোসেনকে সরাসরি ফোন করে বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করেছেন।
২৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেনকে ফোন করে আলোচনা চালিয়ে গেছেন। এই কলটি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ের ইস্লামাবাদে দ্বিপক্ষীয় সফরের দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়। কলের সময়কাল প্রায় পনেরো মিনিটের বেশি ছিল, যা উভয় পক্ষের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব নির্দেশ করে। এই সংলাপের সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হয়েছে।
পাকিস্তান এই বৈঠককে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সম্পন্ন করার জন্য উত্সাহ প্রকাশ করেছে এবং চীন সরকারকে অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের পর নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই উদ্যোগের সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে। যদি নতুন সরকার সম্মতি দেয়, তবে ইস্লামাবাদে শীঘ্রই চার দেশের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্যথায়, আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো পুনরায় আলোচনা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের এই প্রস্তাব আঞ্চলিক সংহতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত। তবে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক সময়সূচি এবং নির্বাচনের নিকটবর্তীতা এই উদ্যোগের বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর বৈঠকের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আঞ্চলিক পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে এই ধরনের ফোরামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।



