প্রিমিয়ার লীগ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটি-র বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তিমূলক অভিযোগের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিন বছর অতিবাহিত হলেও কোনো চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়নি, ফলে ক্লাব ও লিগ উভয়েরই অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
প্রিমিয়ার লীগ ওয়েবসাইটে দশটি অনুচ্ছেদে মোট ১৩৪টি অভিযোগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই অভিযোগগুলো মূলত ক্লাবের আর্থিক তথ্যের সঠিকতা না দেওয়া এবং তদন্তে যথাযথ সহযোগিতা না করার ওপর ভিত্তি করে। অভিযোগগুলো চার বছরের বিস্তৃত তদন্তের পর উঠে আসে, যেখানে ম্যানচেস্টার সিটি দুই ধারাবাহিক মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন এবং পরবর্তী দুই মৌসুমেরও শিরোপা ধারক ছিল।
প্রিমিয়ার লীগ অভিযোগ প্রকাশের পর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, ফলে জনসাধারণ ও ফুটবল শিল্পের মধ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে স্বাধীন প্যানেল গঠনকে স্বাগত জানায় এবং তাদের অবস্থানকে সমর্থনকারী প্রমাণের ব্যাপকতা উল্লেখ করে। এই বিবৃতিতে ক্লাবের দাবি ছিল যে তারা সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করেছে এবং প্যানেলকে ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
শাস্তিমূলক প্যানেলটি তিনজনের একটি দল, যার নেতৃত্বে মারে রোজেন KC আছেন। প্যানেলকে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধান কেন্দ্র, লন্ডনে শোনা হয়। শোনা সেশনগুলো ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলেছিল, যা অভিযোগের এক বছর পর শুরু হয়েছিল। সেশনগুলোতে দুই বড় আইনজীবী দল উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষের যুক্তি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়।
শোনা শেষ হওয়ার পরেও কোনো চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়নি। প্রিমিয়ার লীগ এবং ম্যানচেস্টার সিটি উভয়ই রায়ের আগে কোনো মন্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনো পক্ষের পূর্বধারণা বা চাপ না পড়ে। উভয় পক্ষই প্যানেলকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে এবং রায়ের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করতে ইচ্ছুক বলে প্রকাশ করেছে।
এই অমীমাংসিত অবস্থার ফলে বিভিন্ন অনুমান উত্থাপিত হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক রায়কে “নিকট ভবিষ্যতে” বলে অনুমান করেন, অন্যরা তা “বছরের পর” বলে উল্লেখ করেন। তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক সময়সীমা জানায়নি, ফলে অনুমানই একমাত্র তথ্যসূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিমিয়ার লীগ এবং ম্যানচেস্টার সিটি উভয়েরই পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা অব্যাহত, এবং ফুটবল সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়ার ফলাফলকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আর্থিক নীতি এবং লিগের শাসনব্যবস্থা এই রায়ের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে, তাই উভয় পক্ষই রায়ের প্রকাশের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লীগ ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটি-র বিরুদ্ধে আরোপিত ১৩৪টি আর্থিক ও সহযোগিতামূলক অভিযোগের শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। প্যানেল শোনা শেষ করেছে, তবে রায়ের প্রকাশ এখনও বাকি, যা ফুটবল জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা তৈরি করেছে।



