ঢাকার যমুনা‑সামনের প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের দিকে গতি করা রাস্তায় শুক্রবার বিকাল ১১টা অর্ধেকের পর সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশ দলের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। কর্মীরা ৯ম পে‑স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে মিছিল চালু করে, আর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা দিতে বাধ্য হয়।
সকালবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মচারীরা শহীদ মিনারে একত্রিত হন, সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর তারা যমুনা‑দিকের পথে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে, যা কর্মীদের অগ্রসর হতে বাধা দেয়।
বাধা সত্ত্বেও কর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ শারীরিকভাবে বাধা দিতে থাকে, ফলে ধাক্কা‑ধাক্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাক্কা‑ধাক্কি চলতে থাকে, যেখানে কিছু মুহূর্তে মিছিল সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হয়।
পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। গ্যাসের ধোঁয়া ও শবদ তরঙ্গের প্রভাবে মিছিলের বেশিরভাগ অংশ ছড়িয়ে পড়ে, তবে কিছু সময় পর কর্মীরা পুনরায় সমবেত হয়ে যমুনা‑দিকের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।
পুনরায় সংঘর্ষের মুহূর্তে পুলিশ একই ধরনের অশান্তি দমনকারী উপকরণ ব্যবহার চালিয়ে যায়, ফলে আবারও মিছিলের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। কর্মীরা এই সময়ে বিভিন্ন স্লোগান শোনায়, যার মধ্যে ৯ম পে‑স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের দাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ মাইক্রোফোনের মাধ্যমে বারবার সড়ক ত্যাগের আহ্বান জানায়, তবে কর্মীরা তাদের অবস্থান বজায় রাখে এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে দাবি পুনরাবৃত্তি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে কথোপকথনের কোনো সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেন।
পুলিশের অতিরিক্ত উপস্থিতি সত্ত্বেও কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য পুনরায় সমবেত হয়, তবে অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপের ফলে মিছিল ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয়।
ট্রাফিকের ব্যাহত হওয়ায় বহু গাড়ি ও বাস রাস্তায় থেমে থাকে, কিছু বাস স্টপে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয় এবং যাত্রীদের দেরি সহ্য করতে হয়। রাস্তায় গতি পুনরুদ্ধার হতে কিছু সময় লেগে যায়, তবে অবশেষে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর শারীরিক আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকজন কর্মী অসুস্থ বোধ করে তৎকালীন উপস্থিতি থেকে সরে যান। ঘটনাস্থলে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সাহায্য নিশ্চিত করা হয়।
এই ঘটনার পর সরকারী ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ৯ম পে‑স্কেল গেজেটের প্রকাশের সময়সূচি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ধরনের প্রতিবাদ ভবিষ্যতে বেতন সংক্রান্ত নীতি সংশোধনে চাপ বৃদ্ধি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



