ঢাকা শহরে আজ সকাল ১০:৩০ টায় শাহবাগে সরকারী কর্মচারীদের একটি দল নৌম পঞ্চম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তারা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন জামুনা‑এর দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
প্রদর্শনাটি শাহবাগে শুরু হয়ে দ্রুত গুলশান‑মুক্তা রোডে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা জামুনা‑এর দিকে অগ্রসর হতে চায়। পথের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাধা গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে জলক্যানন, গ্যাস এবং শব্দ গ্রেনেড ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের থামাতে চেষ্টা করে।
বিরোধীরা বাধা ভেদ করার চেষ্টা করলে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উচ্চ চাপে জলক্যানন চালিয়ে এবং শব্দ গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্যাসের ধোঁয়া ও শোরগোলের মাঝেও demonstrators দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হতে থাকে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
প্রায় ১১ টার দিকে demonstrators সাময়িকভাবে জামুনা‑এর নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছায়, তবে পুলিশ দ্রুতই অতিরিক্ত জলক্যানন ও গ্যাস ব্যবহার করে তাদের পুনরায় পিছু হটায়। এই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও কার্যক্রম তীব্রতর হয়।
মহাদেশের রাজশাহী থেকে আসা কলেজ শিক্ষক আনিসুর রহমান জিকো বলেন, “আমাদের একমাত্র দাবি নৌম পঞ্চম বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, এবং এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।” তার বক্তব্যে দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আনিসুর রহমান জিকো আরও জানান, প্রথমে পুলিশ কিছুটা সংযম দেখিয়েছিল, তবে পরে গরম জলক্যানন ও শব্দ গ্রেনেড ব্যবহার করে demonstrators‑কে বাধা দেয়া হয়। তিনি এই পরিবর্তনকে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দুপুর ১ টার দিকে demonstrators দূর থেকে পুনরায় গঠন করে, আর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও কর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে সমাবেশ করে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। এই সমাবেশটি নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে থাকে এবং পরিস্থিতি তীব্র থাকে।
পুলিশ হোটেল থেকে জামুনা‑এর পথে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় গতি না হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপটি রাস্তায় চলাচল সীমিত করে এবং প্রতিবাদকারীদের অগ্রগতি রোধ করে।
প্রায় ১:১৫ টায় পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল বাহারুল আলম现场ে উপস্থিত হন, যেখানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলি ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাদের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করে।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং demonstrators‑এর অবিচলতা শহরের কেন্দ্রীয় অংশে উত্তেজনা বজায় রাখে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রাখে, যা রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
এই প্রতিবাদটি সরকারকে নৌম পঞ্চম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা বর্তমান প্রশাসনিক নীতি ও কর্মচারীর অধিকার নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের প্রতিবাদ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছে, নৌম পঞ্চম বেতন স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় উপস্থিত থাকবে এবং তাদের দাবি পুনরায় তুলে ধরবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা সত্ত্বেও, demonstrators‑এর দৃঢ়তা ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।



