প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে আইসিসির পরিচালনায় ভারতীয় প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে উপমহাদেশের ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাত্রা বাড়ছে এবং বোর্ডরুমের সিদ্ধান্তগুলো মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
নাসেরের মতে, আইসিসির আচরণই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্ষতির মূল কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দুই দেশের দলগুলো প্রায়শই আইসিসির নীতিমালার কারণে একতরফা অবস্থায় ধরা পড়ে।
আইসিসি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের অধীন বলে সমালোচিত হয়েছে। এই অভিযোগের তীব্রতা বাড়ে যখন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জয় শাহ আইসিসির চেয়ারম্যান হন। জয় শাহ হলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র, যা আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এমন ম্যাচগুলো, ভারতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দুবাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়। নাসের উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তনে আইসিসি দ্রুতই ভারতের দাবিকে মেনে নেয় এবং কোনো প্রতিরোধ না করে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করে।
নাসেরের প্রশ্ন সরাসরি ও কঠিন ছিল: যদি একই পরিস্থিতিতে ভারতকে এক মাস আগে জানানো হয় যে তাদের সরকার বিশ্বকাপের জন্য ওই দেশে খেলতে চায় না, তবে আইসিসি কি একইভাবে ভারতকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে? তিনি এই প্রশ্নের মাধ্যমে আইসিসির ন্যায়বিচারিকতা পরীক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নাসেরের সহানুভূতি স্পষ্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হঠাৎ নিরাপত্তা শঙ্কা তুলে ধরেনি; পুরো বিতর্কের সূচনা হয় মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। নাসেরের মতে, বিসিবি (Bcb) তার খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়ে যে সমর্থন দেখিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য।
একই সময়ে পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, যা নাসেরের চোখে নৈতিক ও সাহসিকতার উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে সমর্থন করার পাশাপাশি ভারতীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়।
নাসেরের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়, আইসিসির স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকা জরুরি। তিনি আইসিসিকে আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে কোনো দেশের নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক চাপে ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকতে।
এই আলোচনার মাধ্যমে নাসের হুসেইন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসন কাঠামোর পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি আইসিসি সত্যিকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, তবে উপমহাদেশের ক্রিকেট আবার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার পথে ফিরে আসবে।
শেষে নাসেরের মন্তব্যে উঠে আসে, ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য হল খেলোয়াড়দের মঞ্চ প্রদান এবং ভক্তদের আনন্দ দেওয়া, আর তা অর্জনের জন্য আইসিসির উচিত সকল দেশের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।



