বারিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা, আজ সকাল প্রায় ১০:২০ টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান নির্বাচনী র্যালি পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত সমাবেশে পার্টির নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রাহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে জামায়াতে ইসলামী কখনোই জবরদস্তি, জমি দখল বা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কোনো ধরণের লুটপাটে যুক্ত হয়নি এবং শাসন ক্ষমতা পেলে এমন কোনো কার্যক্রমকে কঠোরভাবে বিরত রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে ৫ আগস্ট ২০২৪ের পর থেকে পার্টি জনগণের জীবন, সম্পদ ও গৌরব রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে অন্য কিছু দল ব্যক্তিগত স্বার্থের পেছনে ছুটেছে।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য জনগণকে সেবা করা হওয়া উচিত, স্বার্থসিদ্ধি নয়—এ কথাটি তিনি জোর দিয়ে বলেন এবং জুলাই মাসে শহীদ হওয়া সহকর্মীদের ত্যাগকে দেশের স্বচ্ছতা ও সমতা গড়ার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি ১১টি দলীয় জোট জনগণের ভোটে জয়লাভ করে, তবে দেশও জয়লাভ করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।
শক্তিশালী শাসন নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে পার্টি ক্ষমতা পেলে দুর্নীতির শিকড় কেটে না দিয়ে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করবে।
আইনের নির্বাচনমূলক প্রয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছোটখাটো অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয়, তবে বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই আইন থেকে অব্যাহতি পায়, যা ন্যায়বিচারের নীতির বিরোধী।
পূর্ববর্তী সরকারী সময়কালে ১৫ বছর অর্ধেক সময়ে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে লন্ডার করা হয়েছে—বিনিয়োগ ব্যাংক, বীমা সংস্থা ও বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে—এটি চারটি জাতীয় বাজেটের সমান এবং দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সম্পদ। তিনি এই অর্থ ফেরত আনার জন্য দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
পার্টির ওপর আরোপিত দমনমূলক নীতি নিয়ে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত রাজনৈতিক সংগঠন, যেখানে ১১জন শীর্ষ নেতা বহিরাগত হস্তক্ষেপে নিহত হয়েছে এবং হাজারো কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়েছে।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে জামায়াতে ইসলামী অফিসগুলো বহু বছর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পার্টির নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক অনিয়মিতভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা তিনি অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষক এই দাবিগুলোর পরিমাণ ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের সংখ্যা এবং পার্টির নিপীড়নের মাত্রা। তারা স্বতন্ত্র তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিরোধীরা অতীতের কিছু ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে যুক্ত করে সমালোচনা চালিয়ে গেছেন এবং দাবি করেন যে পার্টির ওপর আরোপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করা উচিত নয়।
আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি এখনো সরকারীভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় জোটই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এখনও জামায়াতে ইসলামী পার্টির নিবন্ধন ও প্রতীক সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, যা পার্টির নির্বাচনী অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
র্যালি সমাপ্তির সময় রাহমান সমর্থকদের একতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, যদি পার্টি শাসন ক্ষমতা পায়, তবে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।



