দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা রবিুল ইসলাম ১৫তম স্থান অর্জন করে ফাইনাল রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ হারায়। এই ইভেন্টে ফাইনাল নিশ্চিত করতে শুটারদের শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হয়, কিন্তু রবিুলের স্কোর তাকে এই সীমার বাইরে রাখে।
বাছাইপর্বে মোট ২২ জন শুটার প্রতিযোগিতা করেন, যেখানে প্রতিটি শুটারকে একাধিক সিরিজে গুলি করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হয়। রবিুলের মোট স্কোর ৬২২.৪ পয়েন্ট, যা তাকে ১৫তম স্থানে স্থাপন করে। তার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল, তবে প্রতিটি সিরিজে অতিরিক্ত ১ থেকে ১.৫ পয়েন্ট যোগ হলে তার র্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারত।
ইন্ডিয়ান শুটার বিশাল সিং বাছাইপর্বে অষ্টম স্থান অর্জন করে ৬২৪.৬ পয়েন্টের স্কোরে ফাইনালে প্রবেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করেন। বিশাল সিংয়ের পারফরম্যান্স রবিুলের কাছাকাছি হলেও, তার স্কোরে সামান্য পার্থক্যই রবিুলকে ফাইনাল থেকে বাদ দেয়।
ইন্ডিয়ার শুটাররা এই ইভেন্টে শীর্ষস্থান দখল করে, যার মধ্যে রুদ্রাঙ্কশ বালাসাহেব পাতিল সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩২.১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন। রুদ্রাঙ্কশের স্কোর রবিুলের তুলনায় প্রায় ৯.৭ পয়েন্ট বেশি, যা ইন্ডিয়ান শুটারদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ফলাফলকে প্রকাশ করে।
ইন্ডিয়ান শুটারদের এই আধিপত্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রবিুলের পারফরম্যান্সে কিছু ঘাটতি থাকলেও, তিনি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা দেশের শুটিং খাতের উন্নয়নের সূচক।
শুটিং ইভেন্টের পাশাপাশি, বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দল পাঠাতে দ্বিধা প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়।
ক্রিকেটে দল না পাঠালেও, বাংলাদেশ সরকার দুইজন শুটারকে এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্ত শুটিং খেলায় দেশের প্রতিভা বিকাশের প্রতি সরকারের সমর্থনকে নির্দেশ করে।
এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী রাউন্ডে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল পুরুষ ও মহিলা বিভাগে নতুন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রবিুলের মতো শুটারদের পুনরায় সেরা আটের মধ্যে প্রবেশের লক্ষ্য থাকবে।
ইন্ডিয়ান শুটারদের শীর্ষ পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের শুটাররা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করে নিজেদের উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করতে পারবে। রবিুলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে কোচিং স্টাফ ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন।
দিল্লিতে চলমান এই শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে শুটারদের প্রতিযোগিতা তীব্র, এবং প্রতিটি পয়েন্টের পার্থক্য র্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রবিুলের ১৫তম স্থান সত্ত্বেও, তার পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
শুটিং সমিতি ও কোচিং স্টাফ রবিুলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে, পরবর্তী আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পরিকল্পনা করছেন।
দিল্লি শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ পর্যায়ে, শুটারদের র্যাঙ্কিং ও স্কোরের ভিত্তিতে ফাইনাল রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ নির্ধারিত হবে, এবং শুটিং জগতে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি হবে।



