কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের (সিসিসি) মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ওমান ১৮৮ রান লক্ষ্য তাড়া করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। ম্যাচটি গতরাতে অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে একই সময়ে মুখোমুখি হবে।
ওমানের ওপেনার জতিন্দর সিং ৩৩ বলে ৫৫ রান তৈরি করে শুরুর দিকেই দলে দৃঢ়তা এনে দেয়। তার পরের ব্যাটসম্যান জিতেন রমনান্দি ১৮ বলে অতিরিক্ত ৩৪ রান যোগ করে, ফলে দলটি লক্ষ্য থেকে মাত্র চার বল বাকি রেখে জয় নিশ্চিত করে।
ক্যাপ্টেন আমীর কালিম শুরুর ১১ বলে ২৩ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে দুইটি চার এবং দুইটি ছক্কা রয়েছে। তার দ্রুত ইনিংস দলকে রিলেটিভ চাপ কমিয়ে দেয় এবং মাঝের ব্যাটিং অংশে স্বচ্ছন্দে অগ্রসর হতে সহায়তা করে।
জতিন্দর সিং ও হম্মাদ মিরজা দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রান গড়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা ওমানকে লক্ষ্য তাড়া করার সময় স্থিতিশীলতা প্রদান করে। তাদের সংযোজিত পারফরম্যান্স দলকে চূড়ান্ত পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে ব্রায়ান বেনেট ২৮ বলে ৫৬ রান করে শুরুর দিকেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি ব্রেন্ডান টেইলরের সঙ্গে ৮৬ রান গড়ে শক্তিশালী ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা দলকে দ্রুত রানের ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করে।
টাশিঙ্গা মুসেকিওয়া ২৮ বলে ৫৪ রান যোগ করে মাঝের পর্যায়ে দলকে সমর্থন করেন। ষষ্ঠ উইকেটে ডায়ন মায়ার্সের সঙ্গে ৪৩ রান এবং সপ্তম উইকেটে ব্র্যাড ইভান্সের সঙ্গে ৩৩ রান যোগ করে তিনি জিম্বাবুয়ের মোট স্কোর ১৮৭-এ স্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জিম্বাবুয়ে পূর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৯ রান পার্থক্যে জয়লাভ করে তাদের প্রস্তুতি পর্যায়ে ইতিবাচক সূচনা করেছিল। তবে কলম্বোতে ওমানের শক্তিশালী শিকড়ের মুখোমুখি হয়ে তারা লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়ে।
এই জয় ওমানের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যায়ে ধারাবাহিক দুই জয়ের সূচনা নির্দেশ করে। দলটি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, যেখানে তারা আবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ে ও ওমানের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড রয়েছে। গ্রুপের প্রতিটি দলই শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য কঠোর প্রতিযোগিতা করবে।
ওমানের কোচ টিমের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই দুই জয় দলকে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। দলটি এখন শীর্ষ স্তরে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে এবং বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
অবশেষে, ওমানের জয় শুধুমাত্র স্কোরের পার্থক্য নয়, বরং টিমের সামগ্রিক কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতির প্রতিফলন। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার আগে দলটি এই জয়কে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে।



