মার্কিন সরকার নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে নির্মাণাধীন গেটওয়ে রেল টানেল প্রকল্পের তহবিল মুক্তির শর্ত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি অনন্য দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রকল্পের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থছাড়ের বিনিময়ে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশন এবং ওয়াশিংটনের ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম নিজের নামে পরিবর্তন করতে চান। এই প্রস্তাবটি গত মাসে সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমারের সঙ্গে একটি বৈঠকে উত্থাপিত হয়।
চাক শুমার তৎক্ষণাৎ ট্রাম্পের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেন এবং উল্লেখ করেন যে স্টেশন ও বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তার ক্ষমতার মধ্যে নয়। তদুপরি, তিনি এই ধরনের রাজনৈতিক শর্তকে অবৈধ বলে গণ্য করেন। গেটওয়ে প্রকল্পের জন্য প্রায় ষোলো বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রয়েছে, যা হার্ডসন নদীর তলদেশে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিকে সংযুক্ত করবে। তবে গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিলের বরাদ্দ স্থগিত করে, ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়।
ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন এবং দাবি করছেন যে প্রকল্পের তহবিল আটকে রাখার পেছনে নির্বাচনী স্বার্থ কাজ করছে। বর্তমানে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি দুই রাজ্য গেটওয়ে প্রকল্পের তহবিলের মুক্তির জন্য মার্কিন সরকারকে মামলা দায়ের করেছে। আদালতে যদি তহবিল না দেওয়া হয়, তবে প্রকল্পের কাজ থেমে যেতে পারে এবং প্রায় এক হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।
ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগে দেখা গেছে। তার অধীনে ট্রাম্প গোল্ড কার্ড নামে উচ্চমূল্যের নাগরিকত্বের প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, সাশ্রয়ী ওষুধের ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে এবং ‘ট্রাম্প-ক্লাস রণতরি’ নামে একটি নীতি গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও, ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এবং কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনাও তার তালিকায় রয়েছে। এইসব উদ্যোগের পেছনে তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
গেটওয়ে প্রকল্পের কমিশন ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে যে, তহবিল না পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে প্রকল্পের সময়সূচি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ইতিমধ্যে সম্ভাব্য বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমর্থন দাবি করে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের জন্য কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বিল প্রস্তাব করেছেন, যা ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ নামে পুনঃনামকরণকে লক্ষ্য করে। তবে এই বিলগুলো এখনো কংগ্রেসে আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং কোনো ভোটের সূচনা হয়নি। আইনসভার উভয় দিকের মতবিরোধের ফলে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
চাক শুমারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের ওপর কোনো মন্তব্য করা হয়নি, এবং হোয়াইট হাউস থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের নীরবতা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি ট্রাম্পের শর্ত পূরণ না হয় এবং তহবিল অব্যাহতভাবে আটকে থাকে, তবে গেটওয়ে প্রকল্পের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যাবে এবং নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধাক্কা লাগবে। অন্যদিকে, যদি নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তবে এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ শর্তের দাবি বাড়তে পারে।
অবশেষে, গেটওয়ে প্রকল্পের তহবিল মুক্তি, নাম পরিবর্তনের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত লড়াইয়ের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কখনো বাস্তবে রূপ নেবে কিনা। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং প্রায় এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নির্ধারিত হবে।



