শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং নারী-সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের জীবন দানেও প্রস্তুত আছেন বলে প্রকাশ্যে জানালেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে স্পষ্ট করে বললেন, দলটির লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের সমগ্র অধিকার ও সমৃদ্ধি অর্জন করা।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা ক্ষমতায় আসলে চিরতরে শেষ হবে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর হত্যাকে নির্মম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে, ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা পুনরায় ঘটতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান অতীত সরকারগুলোর অধীনে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় এলে এই চুরি করা সম্পদ উদ্ধার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
দলটি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন বাতিলের শিকার হয়েছে, ফলে হাজার হাজার নেতা ও কর্মী কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে। তবুও জামায়াত-এ-ইসলামি জনগণের কল্যাণ থেকে বিচ্যুত হয়নি, বরং সামাজিক সেবা ও জনসাধারণের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দলটি কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়নি; বরং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিজেকে পাহাদার হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই অবস্থানকে ভিত্তি করে তিনি আসন্ন নির্বাচনের প্রথম ধাপে সরাসরি গণভোটের আহ্বান জানান এবং পরবর্তী ধাপে ‘দাঁড়িপাল্লা’ চিহ্নিত করে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, যাতে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি শাসিত বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সবাইকে সমান আইনের অধীনে বিচার করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা দলের স্বার্থে নয়, বরং সমগ্র গণমানুষের মঙ্গলের জন্য রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে দেশ গঠনের সুযোগ থাকবে এবং ধর্ম‑বর্ণের কোনো বৈষম্য থাকবে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক সমতার দিকে অগ্রসর হওয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
জনসভায় উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে আলোচনা শেষে, ডা. শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সমাপ্তি টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে দুর্নীতি দমন, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং নারী‑সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই বক্তব্যের পর দলীয় কর্মীরা উপস্থিত জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় চালিয়ে যান এবং নির্বাচনী প্রচারণার পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বের এই দৃঢ় অবস্থান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সারসংক্ষেপে, ডা. শফিকুর রহমানের জনসভা দেশের নিরাপত্তা, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



