অনুরাগ কাশ্যাপের নাম সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে উঠে আসার পর তিনি স্পষ্টভাবে কোনো সংযোগ অস্বীকার করেছেন। ফাইলগুলোতে তাকে “বলিউডের একজন ব্যক্তি” এবং “প্রসিদ্ধ বলিউড পরিচালক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাশ্যাপের এই মন্তব্য হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইলগুলো হল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের দ্বারা প্রকাশিত নথিপত্রের একটি বিশাল সংগ্রহ, যেখানে মৃত আর্থিক বিশ্লেষক জেফ্রি এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও ইমেইল অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক সপ্তাহে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই নথিগুলো পুনরায় প্রকাশিত হওয়ায় বহু পাবলিক ব্যক্তির নাম আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
কাশ্যাপের নাম এক ইমেইল বিনিময়ে “বলিউডের লোক” এবং “প্রসিদ্ধ বলিউড পরিচালক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইমেইলটি ফাইলের মধ্যে একক র্যান্ডম মেসেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর সত্যতা নিয়ে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কাশ্যাপের মতে, তিনি এ ধরনের কোনো আমন্ত্রণ বা ইভেন্টে কখনো অংশগ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। মাসে প্রায় পনেরোটি বক্তৃতার আমন্ত্রণ পাই, তবে খুব কমই সাড়া দিই।” এই বক্তব্যে তিনি তার পেশাগত জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে আমন্ত্রণের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন।
অতিরিক্তভাবে, ফাইলগুলোতে উল্লেখিত বেইজিং সফরের কথা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। কাশ্যাপ জানান, “আমি কখনো বেইজিংয়ে গিয়েছি না,” এবং এই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রমাণের অভাব উল্লেখ করেছেন।
কাশ্যাপের মন্তব্যের মধ্যে একটি তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণও রয়েছে যে, তার নামের ওপর তৈরি ক্লিকবেট শিরোনামগুলো তার চলচ্চিত্রের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তিনি বলেন, “আমার নামের ক্লিকবেটগুলো আমার ছবির চেয়ে বেশি জনপ্রিয়,” যা মিডিয়ার অতিরঞ্জিত শিরোনাম নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ এপস্টেইনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের তদন্তের অংশ হিসেবে লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে, যা গবেষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে বিশ্লেষণের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।
অন্যান্য ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নামেও ফাইলগুলোতে উল্লেখ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মীরা নায়র এবং নন্দিতা দাস অন্তর্ভুক্ত। এই নামগুলোও মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে, তবে কোনো সরাসরি প্রমাণের অভাব রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এ ধরনের নথি থেকে নাম বের হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অপরাধমূলক সংযোগের প্রমাণ নয়। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত।
সামাজিক মিডিয়া ও অনলাইন ফোরামে এপস্টেইন ফাইলের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে, তবে কাশ্যাপের স্পষ্ট অস্বীকারের পরেও কিছু অংশে গুজবের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। জনসাধারণের জন্য মূল বিষয় হল তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং অনুমানমূলক মন্তব্য থেকে দূরে থাকা।



