অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির পেসার জোশ হ্যাজলউডকে আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কা ও ভারতে অনুষ্ঠিত হবে এবং হ্যাজলউডের পুনরুদ্ধার সময়সূচি শেষ পর্যায়ের ম্যাচের জন্য পর্যাপ্ত ফিটনেস অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তার অনুপস্থিতি দলের পেসিং বিকল্পকে সংকীর্ণ করে তুলবে।
অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচক টনি ডোডেমাইডে জানান, সুপার ৮ পর্যায়ে হ্যাজলউডের ম্যাচ ফিটনেস প্রত্যাশা করা হলেও সাম্প্রতিক তথ্য দেখায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে অনেক সময় বাকি। ত্বরান্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা করলে আঘাতের ঝুঁকি বাড়বে, তাই দলটি এই ঝুঁকি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়।
এই কারণে নির্বাচকরা তৎক্ষণাৎ কোনো বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাথমিক ম্যাচগুলোতে বর্তমান দলে পর্যাপ্ত বিকল্প রয়েছে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী, এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
হ্যাজলউডের বর্তমান অবস্থা আখিলিস টেন্ডনের কারণে, যা তিনি সিডনিতে পুনর্বাসনকালে অর্জন করেন। মূলত হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইনের জন্য পুনরুদ্ধারকালে এই আঘাত ঘটেছিল, ফলে তিনি আসহের শুরুর সিরিজে অংশ নিতে পারেননি এবং পুরো সিরিজই মিস করেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি অক্টোবর ২০২৫-এ ভারতের বিরুদ্ধে ওডিআই ও টি২০ সিরিজে ছিল।
প্রাথমিকভাবে হ্যাজলউডকে শ্রীলঙ্কায় দেরি করে পৌঁছাতে আশা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি আখিলিসের পুনরুদ্ধার চালিয়ে যাবেন। সিডনিতে তার চিকিৎসা ও শারীরিক প্রশিক্ষণ চলমান, তবে বর্তমান অগ্রগতি টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফিটনেসের জন্য যথেষ্ট নয়।
হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার আরেকজন মূল পেসার প্যাট কমিন্সও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছেন না। কমিন্সের পিঠের আঘাত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার খেলায় সীমাবদ্ধতা এনেছে, যার ফলে তিনি আসহের বেশিরভাগ অংশ মিস করেন। তিনি শুধুমাত্র অডিলেডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে অংশ নিতে পেরেছেন, পূর্বে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পশ্চিম ইন্ডিজের সঙ্গে জুন-জুলাই ২০২৫ সিরিজে খেলেছেন।
অন্যদিকে, নাথান এলিস এবং টিম ডেভিডের ফিটনেসে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। উভয় খেলোয়াড়ই গ্রুপ স্টেজে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার পেসিং আক্রমণে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
অ্যাডাম জাম্পা আগামী সপ্তাহে কলম্বোর খোলার ম্যাচে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তার উপস্থিতি দলের শুরুর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পেসার ঘাটতি কিছুটা পূরণ করবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি এখনো কিছুটা ব্যাহত হলেও, নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন যে প্রাথমিক ম্যাচগুলোতে বর্তমান দলে যথেষ্ট বিকল্প রয়েছে। সুপার ৮ পর্যায়ে অতিরিক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তখনই নতুন খেলোয়াড়ের যোগদানের কথা বিবেচনা করা হবে।
টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে কলম্বোতে মুখোমুখি হবে, এরপর সুপার ৮ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। দলটি ফিটনেস সমস্যার পরেও শীর্ষস্থানীয় পারফরম্যান্স বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে।
দলীয় কোচিং স্টাফ হ্যাজলউড ও কমিন্সের অনুপস্থিতি মোকাবেলায় পেসার রোটেশন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। নাথান এলিস, টিম ডেভিড এবং অ্যাডাম জাম্পা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার তরুণ পেসারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত পরিবর্তন করা যায়।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য সেমিফাইনালে পৌঁছানো, যদিও পেসার ঘাটতি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। তবে দলটি এখনও শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ এবং অভিজ্ঞ ফিল্ডারদের সমন্বয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সম্ভনা রাখে।



