দিল্লি হাই কোর্টে গহস্কর পাণ্ডাট শিরোনাম ও প্রচার সামগ্রীকে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রতি আপত্তিকর বলে অবরোধের আবেদন দাখিলের পর পরিচালক নীরজ পাণ্ডে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছেন।
মহেন্দ্র চতুর্ভেদী ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দাখিল করা রিট পিটিশনে চলচ্চিত্রের মুক্তি ও নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং থামানোর দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেন। পিটিশনে শিরোনাম ও পোস্টারকে আপত্তিকর ও মানহানিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীরজ পাণ্ডে জানিয়েছেন গহস্কর পাণ্ডাট একটি কাল্পনিক পুলিশ নাটক এবং ‘পাণ্ডাট’ শব্দটি কেবল একটি কাল্পনিক চরিত্রের উপনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কোনো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন গল্পটি এক ব্যক্তির কাজ ও সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, কোনো সামাজিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করে না।
পরিচালক তার গল্প বলার দায়িত্বের কথা তুলে ধরে উল্লেখ করেন, তিনি সবসময় চিন্তাশীল ও সম্মানজনক কাহিনী উপস্থাপন করতে সচেষ্ট থাকেন। গহস্কর পাণ্ডাটের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তিনি বলছেন, এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে এবং আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
প্রচারের সময় কিছু দর্শকের কাছ থেকে শিরোনাম নিয়ে আপত্তি জানানো হয়, যা পাণ্ডে ও তার দলকে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে শিরোনাম কিছু মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তাই সকল প্রচার সামগ্রী সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণভাবে দেখার পরই তার মূল বার্তা ও প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে বোঝা যাবে, অর্ধেক দৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার করা ন্যায়সঙ্গত নয়। তাই প্রচার সামগ্রী না থাকলেও দর্শকরা পূর্ণ কাহিনী উপভোগ করতে পারবেন।
গহস্কর পাণ্ডাট নেটফ্লিক্সে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত, তবে বর্তমানে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি রিট পিটিশন মঞ্জুর হয়, তবে চলচ্চিত্রের মুক্তি ও স্ট্রিমিং উভয়ই বিলম্বিত হতে পারে।
চলচ্চিত্রে মণোজ বাজপেয়ী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তার ভক্তদের মধ্যে অতিরিক্ত আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে শিরোনাম নিয়ে উত্থাপিত বিতর্কের ফলে কিছু দর্শক চলচ্চিত্রটি দেখার আগে দ্বিধায় পড়তে পারেন।
নীরজ পাণ্ডের পূর্বের কাজগুলোও একই রকম সামাজিক সংবেদনশীলতা নিয়ে সমালোচনা ও প্রশংসা পেয়েছে, তাই এই ঘটনা তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনোদন শিল্পে এই ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের ফলে সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আবারও উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান হবে, তা শিল্পের সকল অংশীদারদের নজরে থাকবে।



