কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ, ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টায় দেবিদ্বার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আলমপুর গ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের জন্য কোনো চাঁদাবাজি বা ঘুষের প্রয়োজন নেই; জনগণ স্বেচ্ছায় অর্থ দান করছে।
প্রার্থী জানান, নির্বাচনে টাকা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তিনি তা স্বচ্ছভাবে সংগ্রহ করছেন এবং কোনো দুর্নীতির পথে না গিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নিজের পকেটের টাকা ছাড়াই নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাই ভোটারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
বৈঠকে উপস্থিত উপস্থিতি অনুযায়ী, আজকের দিনেও তার নির্বাচনী তহবিলে প্রায় নয় লাখ টাকা যোগ হয়েছে, যা প্রতিদিনের ধারাবাহিক দানের ফলাফল। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের স্বেচ্ছা দান তার ক্যাম্পেইনের মূলধন হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও সমর্থন আশা করা হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, টাকা যতই দরকার হোক না কেন, তা নৈতিকভাবে সংগ্রহ করা হবে এবং কোনো ধরণের ঘুষ বা লঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হবে না। তিনি ভোটারদেরকে আশ্বস্ত করেন যে, তার ক্যাম্পেইনে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং জনগণের বিশ্বাসই তার প্রধান সম্পদ।
জুলাই ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতা, ঐ ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণে ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ধারাবাহিক সহযোগিতা তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
প্রার্থী নিজেকে জনগণের সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, এখনকার দায়িত্ব জনগণের হাতে, এবং তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। তার মতে, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম সফল হতে পারে না, তাই তিনি সর্বদা জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।
উঠান বৈঠকে জামায়াত-এ-ইসলামির কুমিল্লা উত্তর জেলা সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম শহিদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক দল এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি প্রার্থীর সমর্থন জোটের ঐক্য ও সমন্বয়কে দৃঢ় করে তুলেছে।
বৈঠকে কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, এবং বর্তমান সময়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহের এই প্রকাশনা তার নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; স্বচ্ছ তহবিল সংগ্রহ এবং দুর্নীতি-মুক্ত প্রতিশ্রুতি তাকে ভোটারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আসন্ন নির্বাচনে এই দৃষ্টিভঙ্গি তার পারফরম্যান্স এবং জোটের সমন্বিত শক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
১১ দলীয় জোট, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক দল, জামায়াত-এ-ইসলামি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং অন্যান্য ছোট দল অন্তর্ভুক্ত, কুমিল্লা-৪ আসনে একত্রিত হয়ে একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি সমালোচনা করা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো। হাসনাত আবদুল্লাহ জোটের শাপলা কলি প্রতীকী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তারিখের আগে প্রার্থী ও জোটের সদস্যরা বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনা করেছে। তবে এই প্রচারণা চলাকালীন নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, অর্থ সংগ্রহের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি বিরোধী দাবিগুলি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রার্থী দাবি করেন, তার দল এই চ্যালেঞ্জগুলোকে স্বচ্ছতা ও জনসেবার মাধ্যমে অতিক্রম করবে।
এই ধরনের স্বচ্ছ তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি এবং দুর্নীতি-মুক্ত প্রতিশ্রুতি কুমিল্লা-৪ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি জনগণের সমর্থন ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবে প্রার্থী এবং তার জোটের পারফরম্যান্স নির্বাচনী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে জোটের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।



