স্ট্র্যানরার শহরের নর্থ ওয়েস্ট ক্যাসল হোটেল, ১৯৭০ সালে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত আইস রিঙ্কের মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের শীর্ষ কার্লারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থান ঘটিয়েছে। হ্যামিল্টন “হ্যামি” ম্যাকমিলন ও তাঁর স্ত্রী জ্যানেট ১৯৬১ সালে হোটেলটি অধিগ্রহণ করে শোবার ঘর ১২ থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করে তুলেছিলেন, এবং ছয় বছর পরই হোটেলে প্রথম স্থায়ী আইস রিঙ্ক যুক্ত করেন।
এই রিঙ্কটি বিশ্বের প্রথম হোটেল-সংযুক্ত আইস রিঙ্ক হিসেবে স্বীকৃত এবং ১৯৭০ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ৫৬ বছর ধরে স্কোয়াশের বদলে কার্লিংয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রিঙ্কের উপস্থিতি স্কটল্যান্ডের বহু ইউরোপীয়, বিশ্ব এবং অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মঞ্চ হয়ে উঠেছে, যা হোটেলকে আন্তর্জাতিক কার্লিং মানচিত্রে আলাদা করে তুলেছে।
হ্যামি ম্যাকমিলনের পুত্র, যাকে একই নামেও ডাকা হয়, পাঁচটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে রিঙ্কের সাফল্যের ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন। তার পরবর্তী প্রজন্মের গর্বের মুহূর্ত আসে ২০২২ সালের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকে ভিকি রাইটের স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমে, যা রিঙ্কের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
বর্তমানে হ্যামি ম্যাকমিলন জুনিয়র ও তাঁর চাচা গ্র্যান্ট হার্ডি, দুজনই মিলানো-কর্টিনা শীতকালীন গেমসের জন্য অলিম্পিক স্বর্ণের স্বপ্ন দেখছেন। তারা ববি ল্যামি, স্ট্র্যানরারের আরেকজন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্রুস মাউটের নেতৃত্বে গ্রেট ব্রিটেনের দল গঠন করেছে। এই দলটি রিঙ্কের দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশলকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হ্যামি ম্যাকমিলন স্রীর কন্যা গেইল মনরো, পাঁচজন সন্তানের সবচেয়ে ছোট, রিঙ্কের সঙ্গে তার জীবনের অঙ্গীকার শেয়ার করেন। তিনি মাত্র চার বছর বয়সে রিঙ্কের নির্মাণ দেখেছিলেন এবং প্রায় দুই দশক ধরে হোটেলের ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে আছেন। গেইল উল্লেখ করেন, স্থানীয় কার্লারদের দীর্ঘ দূরত্বে যাত্রা করে আয়ার বা গ্লাসগোতে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য হওয়ায় রিঙ্কের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব হয়।
হ্যামি ম্যাকমিলন স্রীর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রিঙ্কের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় কার্লারদের বারবার হোটেলের বার থেকে বেরিয়ে অন্য জায়গায় খরচ করতে দেখার পর তিনি রিঙ্কের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা জমা দেওয়ার ছয় মাস পরই রিঙ্কের নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং তা দ্রুতই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কার্লারদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
হোটেলের ইতিহাস ১৮১৯ সালে শুরু হয়, যখন আর্টিক অনুসন্ধানকারী রিয়ার অ্যাডমিরাল স্যার জন রস এই স্থাপনা নির্মাণ করেন। তার ভাগ্নে জেমস ক্লার্ক রস পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য অনুসন্ধানী হিসেবে পরিচিত হন, যা হোটেলের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই ঐতিহাসিক পটভূমি রিঙ্কের আধুনিক সাফল্যের সঙ্গে মিলে হোটেলকে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।
আজ নর্থ ওয়েস্ট ক্যাসল হোটেল আইস রিঙ্কের ব্যবস্থাপনা দল রিঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নত করতে ক্রমাগত কাজ করে চলেছে। রিঙ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শীতল পৃষ্ঠের গুণমান এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। এই প্রযুক্তিগত দিকগুলোই রিঙ্ককে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মর্যাদা দেয়।
রিঙ্কের সাফল্য কেবল আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নদের নয়, স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রেরণা জোগায়। হোটেলটি নিয়মিতভাবে স্থানীয় স্কুল ও ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ সেশন ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কার্লারদের বিকাশে সহায়তা করে। এই ধারাবাহিকতা রিঙ্কের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকে নিশ্চিত করে।
মিলানো-কর্টিনার শীতকালীন গেমসের প্রস্তুতি চলাকালে হোটেলটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে গ্রেট ব্রিটেনের দলকে রিঙ্কের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করা হয়। রিঙ্কের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে, স্কটল্যান্ডের ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যতে আরও আইস রিঙ্কের নির্মাণে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, নর্থ ওয়েস্ট ক্যাসল হোটেল আইস রিঙ্কের ৫৬ বছরের ঐতিহাসিক যাত্রা স্কটল্যান্ডের কার্লিং জগতের গর্বের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যামি ম্যাকমিলন পরিবারের বহু প্রজন্মের প্রচেষ্টা, গেইল মনরোর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কার্লারদের সমর্থন মিলিয়ে রিঙ্কটি আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নদের জন্মদানকারী মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন চ্যাম্পিয়ন এই ঐতিহ্যবাহী রিঙ্ক থেকে উদ্ভূত হবে বলে আশা করা যায়।



