বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পুত্র জাইমা রহমান, বিদেশে দীর্ঘকাল বসবাসের পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হতে প্রস্তুত হচ্ছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ ও দলীয় সভায় উপস্থিতি দিয়ে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন। জাইমা জানান, “চাই শুনতে, বুঝতে এবং শিখতে, আপনাদের সান্নিধ্য থেকে,” ফলে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চান।
প্রবাসী বিএনপি নেতাদের একটি ভার্চুয়াল সভায় জাইমা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, যা দলীয় ফোরামে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্বের জন্য জাইমা আমন্ত্রিত হন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পার্টির অবস্থান তুলে ধরেন।
দেশে ফিরে তিনি খালেদা জিয়ার শেষ সমাহারে উপস্থিতি দিয়ে দাদীর প্রতি শোক প্রকাশ করেন; তার উপস্থিতি মিডিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর, জাতীয় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে তারেক রহমানের সঙ্গে দলীয় উচ্চপদস্থ নেতাদের সাক্ষাৎ হয়, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যানের পারিবারিক সদস্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জাইমা একসঙ্গে আলোচনা করেন।
বিএনপি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাইমা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। গুলশানের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে তার নিয়মিত উপস্থিতি শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণে অংশ নিচ্ছেন।
জাইমা এবং তারেকের পারিবারিক নিকটজনেরা মিডিয়া সেলকে জানিয়েছেন, জাইমা নারী, শিশু ও তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করতে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ ভূমিকা পালন করবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় কার্যালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। ৩১ জানুয়ারি গুলশানের শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে অনুষ্ঠিত রিলস প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেকের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে জাইমা উপস্থিত ছিলেন এবং ফেসবুকসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের স্থানীয় অফিস স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের মওদুদ আলমগীর পাভেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, জাইমা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণ ভোটারকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জাইমা কখনোই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি, তিনি কখনোই সরাসরি নির্বাচনী প্রার্থী হবেন কিনা।
এই সময়ে জাইমা এবং তারেকের পারিবারিক সদস্যদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিশেষ করে খালেদা জিয়ার নাতনি কীভাবে পাবলিক রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন তা এখনও অনিশ্চিত। তবে দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, জাইমা’র অংশগ্রহণ পার্টির তরুণ ও নারী ভোটারকে আকৃষ্ট করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, জাইমা’র উপস্থিতি এবং তারেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় পার্টির নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক যোগ করবে। দলীয় কর্মীরা উল্লেখ করেন, জাইমা’র আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল মিডিয়া সম্পর্কে জ্ঞান পার্টির প্রচারাভিযানে সহায়ক হবে।
সামগ্রিকভাবে, জাইমা রহমানের রাজনৈতিক সূচনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যকে বজায় রেখে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চান, যা ভবিষ্যতে বিএনপির ভোটার ভিত্তি বিস্তারে প্রভাব ফেলতে পারে।



