যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে শ্রম দলের কিছু এমপি থেকে পদত্যাগের দাবি বাড়ছে। দাবি অনুযায়ী, স্টারমারকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের পর, ম্যান্ডেলসনের জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি যথাযথভাবে জানতেন না, যা রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যান্ডেলসন, যিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিবিদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তার পদে ছিলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের তথ্য স্টারমার স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গভীরতা সম্পর্কে তার জ্ঞান সীমিত ছিল। এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা গিয়েছিলেন, তবে তার শিকারদের প্রতি স্টারমার একটি প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও উঠে এসেছে। মিডিয়া সূত্রে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা সম্পর্কে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে ট্রাম্প কোনো তদন্তের মুখে পড়েননি। স্টারমারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও, শ্রম দলের কিছু সদস্যের মতে, ম্যান্ডেলসনের নিযুক্তি এবং এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংযোগের কারণে স্টারমারকে পদত্যাগের দিকে ধাবিত হতে হতে পারে।
ওয়েলসের একটি শ্রম দলীয় এমপি, যার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বিবিসিকে জানিয়েছেন যে স্টারমারকে সরকার থেকে বিদায় নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কমন্সে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টারমার স্বীকার করেছেন যে লর্ড ম্যান্ডেলসন এপস্টাইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের পরিমাণ সম্পর্কে বারবার মিথ্যা বলেছিলেন। এই স্বীকারোক্তি পার্লামেন্টে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
চাপের মুখে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিযুক্তি সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। সংবেদনশীল নথিগুলো দুই দলীয় নিরাপত্তা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার কমিটির নেতৃত্বে থাকতে পারেন। রেনারকে সম্ভাব্য বিরোধী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে দেখা হচ্ছে, যা সরকারী স্থিতিশীলতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
অন্য একটি ওয়েলসের শ্রম দলীয় এমপি, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বিবিসিকে বলেন যে বর্তমান পরিস্থিতি “ভয়াবহ” এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি স্টারমার পদত্যাগ না করেন, তবে পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করা হতে পারে।
এই ঘটনায় পার্লামেন্টের দুই দলীয় নিরাপত্তা কমিটি কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করবে এবং স্টারমারের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদি কমিটি ম্যান্ডেলসনের নিযুক্তি এবং এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, স্টারমার যদি এই বিষয়গুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করে, তবে সরকারী সমর্থন বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে হতে পারে।
শ্রম দলের অভ্যন্তরে এই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে; কিছু সদস্য স্টারমারের নেতৃত্বে অবিচল থাকার পক্ষে যুক্তি দেন, অন্যদিকে বেশিরভাগই তার পদত্যাগের দাবি করছেন। পার্লামেন্টে আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নিরাপত্তা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, কিয়ার স্টারমারকে শ্রম দলের কিছু এমপি থেকে পদত্যাগের চাপের মুখে দেখা যাচ্ছে, যা লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিযুক্তি এবং জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংযোগের ওপর ভিত্তি করে। সরকার তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবং নিরাপত্তা কমিটির কাজের ফলাফল স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে।



