তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জানানো তথ্য অনুযায়ী, শীতলক্ষ্যা নদী ও আদমজী ইপিজেড এলাকায় আজ (শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ হ্রাস পাবে। এই সীমাবদ্ধতা ২১ ঘণ্টা চলবে; বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে শুরু করে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। গ্যাস সরবরাহের এই অস্থায়ী হ্রাসের মূল কারণ হল আদমজী ইপিজেডের মধ্যে অবস্থিত ২০ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা দরকার।
প্রভাবিত এলাকার তালিকায় পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর, পঞ্চবটি ও মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও শ্যামপুর (বিসিক) শিল্প এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া এই স্থানগুলোর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হতে পারে অথবা চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম দিকের বিশাল অংশে বিশেষভাবে গ্যাসের সংকট দেখা যাবে, যা স্থানীয় গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শ্যামপুর (বিসিক) শিল্প এলাকার গ্যাস সরবরাহের হ্রাস উৎপাদন লাইন বন্ধ বা ধীরগতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। গ্যাস-নির্ভর শিল্প যেমন সিমেন্ট, রসায়ন ও টেক্সটাইলের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, ফলে পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে। ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা, বিশেষত রেস্তোরাঁ, হোটেল ও গৃহস্থালী ব্যবহারকারী গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে বিকল্প জ্বালানি খোঁজার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, গ্যাস সরবরাহের এই অস্থায়ী বাধা স্থানীয় বাজারে স্বল্পমেয়াদে চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক বা ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার বাড়লে, জ্বালানি খরচে প্রায় ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিলম্বিত পেমেন্টের সম্ভাবনা বাড়বে, যা গ্যাস কোম্পানির নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি দ্রুত মেরামত ও প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে এবং এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কর্মশক্তি ইতিমধ্যে প্রস্তুত। তবে, পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের সময়সূচি ও নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, যা ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বাজারে এই ঘটনার ফলে গ্যাস সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষত শিল্পকেন্দ্রিক অঞ্চলে। বিনিয়োগকারীরা এখনো দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারেন। একই সঙ্গে, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে।
এই অস্থায়ী স্বল্পচাপের সময়কালে, গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশিত হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের অনুরোধ করা হয়েছে, গ্যাসের চাপ হ্রাসের সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহার কমিয়ে রাখার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার।
দীর্ঘমেয়াদে, গ্যাস নেটওয়ার্কের বয়সজনিত অবনতি ও রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি মোকাবিলায় আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে, উচ্চ চাপের প্রধান পাইপলাইনগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন ও সময়মতো প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করা উচিত, যাতে শিল্প ও গৃহস্থালী উভয়ের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে নারায়ণগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গৃহস্থালী ও শিল্পখাতে তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়বে, তবে দ্রুত মেরামত কাজের মাধ্যমে স্বাভাবিক সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা যায়। এই ঘটনা গ্যাস অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।



