রিশাদ হোসেন, যিনি গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সেরা বোলার হিসেবে রেকর্ড গড়ে তুলেছিলেন, এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে না পা পাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার দল না থাকলেও, রিশাদের মনোভাব ও পারফরম্যান্স এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
গত বিশ্বকাপে রিশাদ হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নজরে এনে দিয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এনে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা তাকে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বোলার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
এই বছর বিশ্বকাপের যোগ্যতা না পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না। রিশাদ হোসেনের মতে, তার শীর্ষ ফর্মে থাকা সময়ে বিশ্বকাপের দর্শক হওয়া তার স্বাভাবিক অধিকার ছিল, তবে দল না থাকায় তিনি নিজেকে বাদ পড়া অনুভব করছেন।
বিশ্বকাপের শুরুর দুদিন আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রিশাদ হোসেন এবং লিটন কুমার দাস দুজনেই দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন। রিশাদ বিগ ব্যাশে ফিরে এসে দারুণ বোলিং দেখিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন।
লিটন কুমার দাসের ইনিংস রাশিতে দলকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে রিশাদ হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্সই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল। উভয় খেলোয়াড়ের সমন্বয় টুর্নামেন্টের সূচনায় ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠায়।
টুর্নামেন্টের আগে দেশের দুই কোচ, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও হান্নান সরকার, প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপ না খেলতে পেরে বেশিরভাগ ক্রিকেটারই গভীর হতাশা অনুভব করছেন। এই মন্তব্যগুলো রিশাদ হোসেনের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
প্রেস কনফারেন্সে রিশাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বিশ্বকাপে না খেলতে পারা তাকে কতটা প্রভাবিত করেছে। তিনি হালকা হাসি দিয়ে উত্তর দেন, “হতাশা কাজ করছে, অবশ্যই কাজ করছে।” এরপর তিনি যোগ করেন, “আমারও একই অনুভূতি।” তার এই সংক্ষিপ্ত উত্তরটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরে যায়। এই সময়ে রিশাদ হোসেন অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশে অংশগ্রহণে মনোনিবেশ করেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃশ্যমান রাখে।
রিশাদ হোসেন জানান, দেশের ক্রিকেটের অস্থিরতা তাকে সরাসরি প্রভাবিত করেনি। তিনি বলেন, “একটি কমিটমেন্টের জন্য আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে, তাই আমি সম্পূর্ণভাবে সেই দায়িত্বে ফোকাস করেছি। বাংলাদেশে কী ঘটছে তা নিয়ে আমি বেশি চিন্তা করিনি, কারণ আমার কাজ ছিল সেখানে দলের প্রতিনিধিত্ব করা।” তার এই বক্তব্যে তার পেশাদারিত্ব স্পষ্ট হয়।
বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। তিনি ১২টি ম্যাচে ওভারপ্রতি ৭.৮২ রান হারে ১৫টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার তার সিজনে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
রিশাদ হোসেনের এই সাফল্য এবং বিশ্বকাপ না খেলতে পারার হতাশা ক্রীড়া জগতে একসাথে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যে কোনো সুযোগে দেশের জন্য আবারও সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত আছেন, যদিও বর্তমানে তার মনোযোগ বিগ ব্যাশের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীভূত।



