রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় পর আবারও বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। দু’দেশই একে অপরকে ১৫৭ জন করে বন্দি মুক্তি দিয়েছে। এই বিনিময়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার অংশ হিসেবে ঘটেছে।
বিনিময়কৃত বন্দিদের মধ্যে সামরিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে পরিবারিক দায়িত্বে থাকা মানুষ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞ সৈন্য রয়েছে। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মাঝে মানবিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আলাপচারিতা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে, আবু ধাবির একটি কনফারেন্স রুমে রাশিয়া ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিন ধারাবাহিক আলোচনার পর এই ফলাফল অর্জিত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশটি উভয় পক্ষকে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সমঝোতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছে।
একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর আক্রমণ তীব্রতর করেছে, যা দেশের নাগরিক ও শিল্পখাতে বিশাল ক্ষতি সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ট্রান্সমিশন লাইনকে লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই কৌশলটি শত্রুর সামরিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি জনসাধারণের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন যে রাশিয়া ড্রোন আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা স্টারলিংক টার্মিনালগুলো এখন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ড্রোনের রিয়েল-টাইম যোগাযোগকে সীমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদুপরি, ইউক্রেনের সাইবার নিরাপত্তা দলও এই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
উক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একই দিনে জানিয়েছেন যে যুদ্ধের ফলে দেশের সামরিক বাহিনীর ক্ষতি ৫৫,০০০-র বেশি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সংখ্যায় পেশাদার সৈন্য ও বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে এখনও নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ফরাসি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে ৫৫,০০০ নিহতের মধ্যে পেশাদার এবং বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উভয়ই রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই সংখ্যা সরকারী রেকর্ডে প্রকাশিত মোট ক্ষতির তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তবে, নিখোঁজদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়ছে।
প্রায় ছয় মাস আগে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ৭০,০০০ের বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। বর্তমান প্রতিবেদনে জেলেনস্কি আরও যোগ করেন যে এখনও বিশাল সংখ্যক নাগরিককে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
বন্দি বিনিময় এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আক্রমণ উভয়ই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও সমঝোতা ও মানবিক চুক্তির পথ খুলে দিতে পারে। তবে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক কৌশল বজায় থাকলে সংঘাতের তীব্রতা কমে না, যা পরবর্তী আলোচনার শর্তকে প্রভাবিত করবে।
বন্দি বিনিময়ের ফলে কিছু পরিবার অবশেষে পুনর্মিলিত হতে পারবে, তবে যুদ্ধের সামগ্রিক অবস্থা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন রাশিয়া-ইউক্রেনের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের দিকে কেন্দ্রীভূত। পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন বলে বিবেচিত হচ্ছে।



