গুরুবারের দুপুরে গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ নামে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা সম্ভব, তবে তা নির্ধারিত রুলস অব এনগেজমেন্টের সীমার মধ্যে থাকবে।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রমের স্পষ্ট ধারণা প্রদান করা। জেনারেল হোসেন জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে নির্বাচনপূর্ব সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে ১০ জানুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীর মাঠে উপস্থিতি ৩৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার করা হয়। পরবর্তী দুই সপ্তাহে, ২০ জানুয়ারি, এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩,৭৩০ জন সদস্য অতিরিক্ত মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং প্রধান মেট্রোপলিটন শহরে মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান এবং চেকপোস্টের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে কোনো অশান্তি দ্রুত সনাক্ত ও দমন করা যায়।
অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা হয়। ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র, মূলত দেশি-বিদেশি পিস্তল, পাশাপাশি গোলাবারুদ, ককটেল এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে বলে জেনারেল হোসেন উল্লেখ করেন।
এছাড়া, ২২,২৮২ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ধরণের সমন্বিত কাজ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য শেয়ারিংয়ের ফলাফল হিসেবে দেখা যায়।
অতিরিক্ত বলের প্রয়োজনীয়তা উদ্ভব হলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রুলস অব এনগেজমেন্টের ধারাবাহিকতা মেনে কাজ করবে। জেনারেল হোসেন বলেন, আইনগত সীমার মধ্যে থেকে ধাপে ধাপে বলের মাত্রা বাড়ানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি কমে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সামগ্রিকভাবে, সেনাবাহিনীর এই প্রস্তুতি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গৃহীত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য হিংসা রোধ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা—এই তিনটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সামরিক ও নাগরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাবে।



