ওয়াশিংটন পোস্ট, যেটি আমাজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন, সম্প্রতি টেকনোলজি ও বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দলকে অর্ধেকের কমে নামিয়ে ৩০০েরও বেশি কর্মীকে প্রভাবিত করেছে। এই পদক্ষেপটি বৃহত্তর সংস্থার পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
প্রযুক্তি আজকের সমাজে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে; স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন এবং ক্লাউড সেবা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এসব উদ্ভাবনের বেশিরভাগই সিলিকন ভ্যালি থেকে উৎপন্ন, যা এখন আমাদের কব্জিতে, পকেটে এবং কর্মস্থলে উপস্থিত।
বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় টেক সেক্টরের প্রভাব স্পষ্ট। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ দশের মধ্যে সাতজনের সম্পদ সরাসরি প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। জেফ বেজোস তৃতীয় স্থানে, তার আগে মেটা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জুকারবার্গ এবং এলন মাস্ক রয়েছেন। তালিকায় ওরাকলের ল্যারি এলিসন, গুগলের ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন, এবং মাইক্রোসফটের প্রাক্তন সিইও স্টিভ বাল্মার অন্তর্ভুক্ত।
ওয়াশিংটন পোস্টের টেক, সায়েন্স, হেলথ ও বিজনেস বিভাগে ৮০ জন কর্মীর দলকে ৩৩ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সংকোচনটি প্রযুক্তি সংবাদ উৎপাদনের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
বিশেষ করে টেক ডেস্কে ১৪ জন সাংবাদিককে বরখাস্ত করা হয়েছে, এবং সান ফ্রান্সিসকো ব্যুরো এখন কার্যত শূন্য। পূর্বে এই ব্যুরো সিলিকন ভ্যালির সরাসরি কভারেজের জন্য পরিচিত ছিল।
বর্জনকৃত কর্মীদের মধ্যে আমাজন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট সংস্কৃতি এবং তদন্তমূলক রিপোর্টিংয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা অন্তর্ভুক্ত। এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহের অভাব দেখা দিতে পারে।
মিডিয়া শিল্পের কভারেজ দলেও ছাঁটাই হয়েছে; পূর্বে বেজোসের মালিকানার ওপর রিপোর্ট করা এই দলটি এখন আর নেই। ফলে প্রকাশনা শিল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কমে গেছে।
স্পোর্টস ব্যুরো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যা খেলাধুলা সংক্রান্ত সংবাদ ও বিশ্লেষণকে প্রভাবিত করবে।
বিদেশি প্রতিবেদনের দলও প্রায় সম্পূর্ণভাবে হ্রাস পেয়েছে; মধ্যপ্রাচ্যের ব্যুরো এবং ইউক্রেন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ইত্যাদি অঞ্চলের কভারেজে কাজ করা সাংবাদিক ও সম্পাদকদের অধিকাংশই চাকরি হারিয়েছেন।
এই পদক্ষেপের ফলে টেকনোলজি ও বৈশ্বিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল পাঠকদের জন্য তথ্যের প্রবাহ সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে টেক শিল্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতি বিবেচনা করলে, গভীর বিশ্লেষণমূলক রিপোর্টের ঘাটতি পাঠকদের সচেতনতা হ্রাসের দিকে নিয়ে যাবে।
মিডিয়া সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ এবং বিজ্ঞাপন আয়ের হ্রাসের ফলে এমন পুনর্গঠন দেখা দিচ্ছে, তবে টেকনোলজি সংবাদকে অগ্রাধিকার না দিলে জনমত গঠন ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব পড়তে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এই সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত শীর্ষ ধনীদের প্রভাবের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে; যেখানে মালিকের স্বার্থ ও মিডিয়া স্বাধীনতার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, টেক সংবাদ কভারেজের এই হ্রাস মিডিয়া পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা পাঠকদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজের স্বচ্ছতা উভয়ই প্রভাবিত করবে।



