অ্যাপল বিশ্বব্যাপী ‘দ্য লাস্ট ফার্স্ট: উইন্টার K2’ ডকুমেন্টারির অধিকার অর্জন করেছে। এই চলচ্চিত্রটি সানড্যান্স ফেস্টিভ্যালে প্রথম প্রদর্শিত হয় এবং শীতকালে K2 শীর্ষে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের গল্প বলে। অ্যাপল এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে শীতকালীন পর্বতারোহণের ইতিহাসকে বিশ্বদর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। এই পদক্ষেপটি অ্যাপলের কন্টেন্ট লাইব্রেরিকে বৈশ্বিক স্তরে সমৃদ্ধ করার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।
ডকুমেন্টারিটি ২০২১ সালের শীতকালীন K2 অভিযানকে অনুসরণ করে, যেখানে পাঁচজন অভিযাত্রী প্রাণ হারায়। শীর্ষে প্রথমবারের মতো শীতকালে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল, তবে কঠোর আবহাওয়া ও উচ্চতার ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বিপর্যয়জনক ঘটনাকে চলচ্চিত্রটি বিশদভাবে উপস্থাপন করেছে। দুর্যোগের পরেও দলটি পর্বতারোহণের নৈতিকতা ও মানবিক দিক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায়।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী আইসল্যান্ডের পর্বতারোহী জন স্নোরি সিগুর্জনসন এবং পাকিস্তানি পিতা-পুত্র দল আলি ও সাজিদ সাদপারা’র প্রচেষ্টার চারপাশে ঘোরে। তারা শীতকালে K2‑এর শীর্ষে প্রথম চূড়া স্পর্শের স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের যাত্রা এবং শেষ মুহূর্তের সংগ্রাম চলচ্চিত্রের হৃদয়বিন্দু। তাদের গল্পের মাধ্যমে শীতকালের K2 অভিযানের মানসিক ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অভিযানে সামাজিক মিডিয়া প্রভাবশালী পর্বতারোহী, চলচ্চিত্র দল এবং বাণিজ্যিক ক্লায়েন্টদেরও অংশগ্রহণ ছিল। নেপালীয় সেলিব্রিটি পর্বতারোহী নিমস এবং তার শেরপা দলও শীর্ষে ওঠার পথে সহায়তা করেছিল। এই মিশ্রণটি শীতকালের K2 অভিযানের জটিল সামাজিক কাঠামোকে উন্মোচিত করে। ফিল্ম ক্রু এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি অভিযানের বাণিজ্যিক দিককে আরও জোরদার করে।
ডকুমেন্টারিটি বাণিজ্যিকীকরণ, সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব এবং শীর্ষে ওঠার জন্য আর্থিক সক্ষমতার পার্থক্যকে বিশ্লেষণ করে। শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও স্পন্সরশিপের ভূমিকা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে দর্শকরা পর্বতারোহণের গ্ল্যামার ও বাস্তব ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য বুঝতে পারে। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে দর্শকরা পর্বতারোহণের সামাজিক স্তরবিন্যাসের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হয়।
প্রোডাকশন কাজটি প্রোপাগেট, ভেঞ্চারল্যান্ড এবং অবজেক্ট স্টুডিওসের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। চলচ্চিত্রের নির্মাণে সীন রিচার্ড, সারা থমসন, জন ব্যাটসেক, হাওয়ার্ড টি. ওয়েনস এবং বেন সিলভারম্যানের সহযোগিতা রয়েছে। এই দলটি উচ্চমানের ডকুমেন্টারি তৈরিতে পরিচিত। প্রোডাকশন টিম চরম শীতলতা ও উচ্চতার চ্যালেঞ্জকে ক্যামেরার মাধ্যমে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছে।
এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে ড্রু বাকলি, জেমস প্যাকার, উইল কেইন, আমির বার-লেভ, টেলর লেভিন, কেরস্টিন এমহফ এবং আলি ব্রাউন যুক্ত ছিলেন। তাদের সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের কাহিনী ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় গভীরতা এসেছে। এই নামগুলো আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি ক্ষেত্রে সম্মানিত। এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসারদের অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেয়।
অ্যাপল সম্প্রতি ‘কম সি মি ইন দ্য গুড লাইট’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুরস্কার দৌড়ে অংশ নিচ্ছে, যা গত বছর ২০২৫ সানড্যান্সে অধিগৃহীত হয় এবং একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছে। এছাড়া স্টিল: এ মাইকেল জে. ফক্স মুভি এবং বয়েজ স্টেটের মতো পূর্বের সানড্যান্স ডকুমেন্টারিগুলিকেও স্ট্রিমিং লাইব্রেরিতে যুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপগুলো অ্যাপলের ডকুমেন্টারি পোর্টফোলিওকে শক্তিশালী করছে। এই ধারাবাহিকতা অ্যাপলের স্ট্রিমিং সেবার জন্য উচ্চমানের ডকুমেন্টারি কন্টেন্ট নিশ্চিত করে।
২০২৬ সানড্যান্স ফেস্টিভ্যালে অধিগ্রহণের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর, যেখানে ‘দ্য লাস্ট ফার্স্ট’ মাত্র কয়েকটি ঘোষিত শিরোনামের মধ্যে একটি। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শিরোনামগুলোর মধ্যে কুইয়ার হরর ‘লেভিটিকাস’ নীয়ন স্টুডিওতে এবং অলিভিয়া ওয়াইল্ডের ‘দ্য ইনভাইট’ এ২৪-এ যাওয়া অন্তর্ভুক্ত। এই সীমিত তালিকা বাজারের উচ্চ প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। সানড্যান্সের এই বছর সীমিত অধিগ্রহণের পেছনে বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাজেট সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
অ্যাপলের এই নতুন অধিগ্রহণ শীতকালের পর্বতারোহণের রোমাঞ্চকে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে জোরদার করে। একই সঙ্গে ডকুমেন্টারি শাখায় তার উপস্থিতি বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আকর্ষণ বাড়বে বলে আশা করা যায়। অ্যাপলের এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টারির সম্ভাবনা বাড়বে।



