নাট্যশিল্পী জেলি রোল ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে লস এঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো.কম আরেনায় অনুষ্ঠিত গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে তিনটি স্বর্ণপদক জয় করেন। তার স্বামী‑স্ত্রী বুনি এক্সো একই রাতে জানিয়েছেন যে, পুরস্কারগুলোর একটি ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি কিশোর ডিটেনশন সেন্টারে দান করা হবে, যাতে সেখানকার তরুণদের প্রেরণা দেয়া যায়।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানে জেলি রোলের তিনটি ক্যাটেগরিতে জয়লাভের খবর প্রকাশিত হয়। তিনি শাবুজির সঙ্গে গাওয়া “এমেন” গানের জন্য সর্বোত্তম কান্ট্রি ডুয়ো/গ্রুপ পারফরম্যান্স, “বিউটিফুলি ব্রোকেন” অ্যালবামের জন্য সর্বোত্তম সমসাময়িক কান্ট্রি অ্যালবাম এবং ব্র্যান্ডন লেকের সঙ্গে গাওয়া “হার্ড ফট হ্যালেলুজা” গানের জন্য সর্বোত্তম সমসাময়িক ক্রিশ্চিয়ান মিউজিক গানের পুরস্কার পেয়ে গর্বিত হন।
অ্যালবাম ক্যাটেগরিতে পুরস্কার গ্রহণের সময় জেলি রোল তার স্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তোমার সাহায্য ছাড়া আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না; না হলে হয়তো আমি মৃত্যুর মুখে বা জেলে থাকতাম।” এই উক্তি শোয়েতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন তুলেছিল এবং তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এমন সঙ্গীর প্রতি গভীর সম্মান জানায়।
বুনি এক্সো একই সাক্ষাৎকারে জানান যে, পুরস্কারগুলোর একটি ন্যাশভিলের কিশোর ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে সেখানকার যুবকদের স্বপ্নের আলো জ্বালাতে চান। তিনি বলেন, “আমি চাই এই গ্র্যামি তাদের জন্য একটি প্রেরণার সুত্র হয়ে উঠুক, যেন তারা জানে যে তাদের ভবিষ্যতেও বড় স্বীকৃতি পেতে পারে।” তার এই উদ্যোগকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুনি এছাড়াও হালকা মেজাজে উল্লেখ করেন, “অন্য দুইটি পুরস্কার নিয়ে কী করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি, তবে আমি নিশ্চিত যে একটিকে নিজের হাতে রাখব, কারণ আমি মনে করি আমি এটির যোগ্য।” তিনি এই মন্তব্যে দলগত কাজের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “টিমওয়ার্কই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।”
জেলি রোলের অতীতের কথা উল্লেখ না করলে এই দানের গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। তিনি ১৪ বছর বয়স থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে, যার মধ্যে গ্যাবার্ডেড রোবারি এবং মাদক ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত, জেলে কাটিয়েছেন। এই কঠিন সময়গুলো তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে বাধা দিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজের জীবনকে পুনর্গঠন করেন।
ডিসেম্বরে টেনেসি রাজ্যের গভর্নর বিল লি তার অপরাধের জন্য তাকে দম্পতি করে দেন। এই দম্পতি তাকে নতুন সূচনা দিতে সহায়তা করেছে এবং তার সাফল্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দম্পতি এখন এই দম্পতি দানের মাধ্যমে সমাজে ফিরে দিতে চান, যা তার নিজের অতীতের সঙ্গে একটি পূর্ণবৃত্তিক মুহূর্তের প্রতীক।
বুনি এক্সো এবং জেলি রোলের এই পরিকল্পনা কিশোর ডিটেনশন সেন্টারের যুবকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরস্কারটি যদি সত্যিই সেখানে পৌঁছে যায়, তবে তা সেখানকার তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তাদেরকে দেখাবে যে কঠিন সময়ের পরেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
এই দানের পরিকল্পনা এবং গ্র্যামি জয়ের বিশদ বিবরণ নিয়ে বুনি এক্সো একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি ভবিষ্যতে আরও সামাজিক প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সঙ্গীত শিল্পের ব্যক্তিত্বরা কীভাবে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে তা একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।



