অভিনেত্রী মাওরা হোসেন এবং তার ‘সাবাত’ সহ-অভিনেতা আমির গিলানি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে লাহোরের ঐতিহাসিক লাহোর ফোর্টে বিবাহের আচার সম্পন্ন করেন। দুজনের বিয়ে একটি স্বপ্নময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঐতিহ্যবাহী সজ্জা ও আধুনিক রোমান্সের মিশ্রণ দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুজনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
মাওরা হোসেন সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে আনন্দের সঙ্গে সংবাদটি জানিয়ে দেন। তিনি পোস্টে “And in the middle of chaos… I found you. BISMILLAH 5.2.25” শিরোনামসহ একটি উষ্ণ ক্যাপশন যুক্ত করেন, যা তার অনুসারীদের মধ্যে তীব্র সাড়া ফেলেছে।
অনলাইন অনুসারীরা মাওরার পোস্টে একের পর এক অভিনন্দন জানিয়ে, দম্পতির নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করেন। মন্তব্যে উভয়ের জন্য সুখের কামনা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দেখা যায়।
বিবাহের ছবি গুলোতে দম্পতি একে অপরকে আলিঙ্গন করে হাসি মুখে দেখা যায়, যা তাদের আনন্দের স্বচ্ছ প্রকাশ। এক ফ্রেমে দুজনের চোখে চোখে তাকিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা দৃশ্য রোমান্সের ছোঁয়া যোগ করেছে।
আরেকটি ছবিতে দম্পতি একসাথে নাচের মুহূর্ত ভাগ করে নেয়, যা তাদের নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নাচের সময় তাদের সিঁড়ি-সিঁড়ি চলা, হাসি-খুশি মুহূর্তগুলো ছবিতে জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।
লাহোর ফোর্টের প্রাচীন প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়েছে। প্রাসাদের প্রাচীন দেয়াল ও বাগানের পটভূমি দম্পতির ছবিতে রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
মাওরা হোসেনের বিবাহের পোশাক ছিল আকাশী নীল রঙের লেহেঙ্গা, যার প্রান্তে রঙিন বর্ডার ও হালকা সোনালি ও গোলাপি সূচিকর্ম যুক্ত ছিল। লেহেঙ্গার সাথে মিলিয়ে নরম সাদা ব্লাউজ তার নরম সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
অন্যদিকে আমির গিলানি চারকোল রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন, যার সঙ্গে স্টাইলিশ ভেস্ট ও সমন্বিত শাল যুক্ত ছিল। গাঢ় রঙের পোশাকটি মাওরার উজ্জ্বল লেহেঙ্গার সঙ্গে চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি করে, যা দম্পতির সামগ্রিক চেহারাকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।
দম্পতির এই সজ্জা ও স্টাইলের সমন্বয় তাদেরকে ছবিতে একদমই নিখুঁত জুটি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। উভয়ের পোশাকের রঙ ও ডিজাইনের সামঞ্জস্য তাদের রোমান্সকে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করেছে।
মাওরা ও আমিরের ‘সাবাত’ এবং ‘নিম’ সিরিজে পারস্পরিক রসায়ন দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। স্ক্রিনে তাদের সংলাপ ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভক্তদের মধ্যে রোমান্সের কল্পনা জাগিয়ে তুলেছিল।
সামাজিক মাধ্যমে দুজনের মাঝে ভাগ করা মধুর মুহূর্তগুলো প্রায়ই রোমান্সের গুজবের জন্ম দিয়েছে, তবে দুজনই কোনোভাবে তা নিশ্চিত করেননি। গুজবের পরেও উভয়ই ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছেন।
এই বিবাহের মাধ্যমে ভক্তদের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে তারা দুজনের যৌথ ভবিষ্যৎকে উন্মুক্তভাবে দেখতে পাবেন। দম্পতির সমন্বিত উপস্থিতি ও পারস্পরিক সমর্থন তাদের ক্যারিয়ারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবাহের পর থেকে দম্পতি সামাজিক মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করা ছবিগুলোতে আনন্দের মুহূর্তগুলো ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করছেন, যা ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত বজায় রাখে।
ভবিষ্যতে মাওরা হোসেন ও আমির গিলানি কোন নতুন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করবেন, তা এখনও অজানা, তবে তাদের সমন্বিত উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা নতুন কাজের জন্য ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সারসংক্ষেপে, মাওরা হোসেন ও আমির গিলানির বিবাহ লাহোরের ঐতিহাসিক প্রাসাদে অনুষ্ঠিত একটি রোমান্টিক ও শৈল্পিক অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে উভয়ের পোশাক, পরিবেশ ও ভক্তদের উষ্ণ সাড়া একসাথে মিলিত হয়েছে। এই মুহূর্তটি তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যায়।



