বরিশাল‑১ (গৌরনদী‑আগৈলঝাড়া) আসনের বালুর মাঠে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম শাসন‑নীতি সংক্রান্ত তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রেজাউল করীম দেশের উন্নয়নের জন্য কেবল ভালো নেতা নয়, সঠিক নীতিরও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
রেজাউল করীম উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও দেশের শাসনব্যবস্থা মানুষের কল্যাণে যথাযথ ফল দিতে পারেনি। তিনি বলেন, অতীতের শাসক ও তাদের নীতি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে না, ফলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়নি।
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি চারবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে, যা দেশের সুনাম ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ক্ষতি করেছে। রেজাউল করীমের মতে, এই ধারাবাহিক দুর্নীতি দেশের সোনার ভূমিকে নষ্ট করেছে।
সমাবেশে রেজাউল করীম সামাজিক সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, হাজারো মায়ের কোল শূন্য হয়ে গেছে, অসংখ্য মানুষ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি কৃষক ও শ্রমিকদের শোষণ, তাদের শ্রমের ফল স্বদেশে না গিয়ে বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগমপাড়া’ নির্মাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় সংহতির আহ্বান জানিয়ে রেজাউল করীম মুসলিম, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদের একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি সবাই ভালো থাকতে চায়, তবে ভালো নেতা ও নীতি অপরিহার্য, এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সেই নেতৃত্ব ও নীতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা রাখে।
অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি উল্লেখ করে রেজাউল করীম জানান, যখন কিছু লোক লুটপাটে ব্যস্ত ছিল, তখন ইসলামি আন্দোলনের কর্মীরা নিজের প্রাণ ঝুঁকিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পদ রক্ষা করেছেন। এই কাজকে তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে রেজাউল করীমের বার্তা স্পষ্ট: আসন্ন নির্বাচনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে ভোট দিন। তিনি ইনশা আল্লাহ একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা পাবে, এবং দুর্নীতি ও অন্যায়ের কোনো জায়গা থাকবে না।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল‑১ আসনের প্রার্থী মেহেদী হাসান সরদার। সরদার বলেন, যদি ভোটাররা তাকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত করেন, তবে এই আসন ন্যায়, নিরাপত্তা ও মানবিক উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠবে। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রেজাউল করীমের এই বক্তৃতা ধর্মীয় সংহতি ও ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সমাবেশের পরবর্তী দিনগুলোতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত র rally ও জনসমাগমের পরিকল্পনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, রেজাউল করীমের বক্তব্য দেশীয় শাসনব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় ঐক্যের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ তার ঘোষিত নীতি ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতটা সফল হবে।



