গোর ভেরবিন্স্কি পরিচালিত ‘গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই’ চলচ্চিত্রটি ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারে প্রদর্শনীতে মঞ্চস্থ হয়। চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে স্যাম রকওয়েল অভিনয় করেছেন, আর হ্যালি লু রিচার্ডসন, জুনো টেম্পল, মাইকেল পেনা, জ্যাজি বেট্স, আসিম চৌধুরী, টম টেইলর, জর্জিয়া গুডম্যান, ড্যানিয়েল বার্নেট এবং আর্টি উইলকিনসন-হান্টসহ বিশাল কাস্টকে সমন্বিত করেছে। রেটিং R এবং মোট দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টা চৌদ্দ মিনিট, চলচ্চিত্রটি রেটেড অডিয়েন্সের জন্য নির্ধারিত।
গোর ভেরবিন্স্কি গত দশকে ‘দ্য লোন রেঞ্জার’ ও ‘এ কিউর ফর ওয়েলনেস’ এর ব্যর্থতা পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জায়গা থেকে দূরে ছিলেন। তবে ১৯৯৭ সালের ‘মাউস হান্ট’‑এর রেট্রো স্ল্যাপস্টিক, জাপানি হরর ‘দ্য রিং’‑এর আমেরিকান রিমেক এবং ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ সিরিজের প্রথম অংশের উচ্ছল গতি-ভিত্তিক দৃশ্যের জন্য তিনি এখনও স্মরণীয়। এই নতুন কাজটি তার পূর্বের সাফল্যগুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে পারে বলে ভক্তদের প্রত্যাশা রয়েছে।
‘গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই’ শিরোনামের প্রত্যাশা অনুযায়ী তীব্র স্যাটায়ারিক স্বর না থাকলেও, ভেরবিন্স্কির গতিশীল অ্যাকশন দৃশ্য এবং কাস্টের আকর্ষণীয় পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রকে গনজো সাই-ফাই কমেডি ধারায় একটি মজার সংযোজন করে তুলেছে। তবে দুই ঘণ্টা পঁচিশ মিনিটের দীর্ঘতা এবং মথিউ রবারসনের রচিত স্ক্রিপ্টের মাঝে মাঝে হালকা হাস্যরসের অভাব চলচ্চিত্রের সামগ্রিক প্রভাবকে কিছুটা কমিয়ে দেয়।
কাহিনীর মূল কেন্দ্রে রয়েছে রকওয়েলের চরিত্র, যাকে নামহীন একজন মানুষ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। তিনি লা সিয়েনেগা বুলেভার্ডের নরমস ডিনারে এক রাতে প্রবেশ করে গ্রাহক ও কর্মীদের জানিয়ে দেন, “এটি ডাকাতি নয়, আমি ভবিষ্যৎ থেকে এসেছি এবং এখানে সবকিছু ভয়াবহভাবে শেষ হবে।” তার হাতে নিজস্ব তৈরি করা আপোক্যালিপটিক স্যুট থেকে পানি লিক হচ্ছে, যা সময় ভ্রমণের ইঙ্গিত দেয়। এই অদ্ভুত ঘোষণার পর ডিনারের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি গড়ে ওঠে, যেখানে ভবিষ্যতের হুমকি এবং বর্তমানের অস্থিরতা একসঙ্গে মিশে যায়।
চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানবজাতির বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও কিছু দৃশ্যে নতুনত্বের অভাব দেখা যায়, তবু ভেরবিন্স্কির দৃশ্যমান শৈলী এবং দ্রুতগতির সম্পাদনা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। রকওয়েলের স্বাভাবিক গ্যাগার চরিত্রে অভিনয়, হ্যালি লু রিচার্ডসনের তীক্ষ্ণ উপস্থিতি এবং জুনো টেম্পলের শক্তিশালী পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রের সামগ্রিক মানকে সমর্থন করে।
চলচ্চিত্রের রিলিজের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ায় দর্শকরা বাড়িতে থেকেই এই সাই-ফাই কমেডি উপভোগ করতে পারছেন। রেটিং R হওয়ায় কিশোরের নিচে বয়সের দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়; তবে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য এটি প্রযুক্তি-নিয়ন্ত্রিত সমাজের ভয় এবং হাস্যরসের মিশ্রণ উপস্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে, ‘গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট ডাই’ গোর ভেরবিন্স্কির ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদিও শিরোনামের প্রতিশ্রুতির পুরোপুরি পূরণ না হলেও, চলচ্চিত্রের আকর্ষণীয় কাস্ট, চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল এবং সময় ভ্রমণের থিম দর্শকদের জন্য যথেষ্ট বিনোদন প্রদান করে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও মানবতার সম্পর্ক নিয়ে আরও গভীর আলোচনা আশা করা যায়, তবে এই কাজটি বর্তমানে বিদ্যমান দৃষ্টিকোণকে হালকা হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করে, যা আধুনিক দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম।
চলচ্চিত্রটি ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের দৈর্ঘ্য নিয়ে রেটেড R হিসেবে প্রকাশিত, এবং ভেরবিন্স্কির পূর্বের কাজের ভক্তদের পাশাপাশি নতুন দর্শকদের কাছেও আকর্ষণীয় হতে পারে। ভবিষ্যৎ থেকে আসা এই সময় ভ্রমণকারী চরিত্রের অদ্ভুত ঘোষণার মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি মানবজাতির ভবিষ্যৎ সংকটকে হালকা মেজাজে তুলে ধরেছে, যা আধুনিক সমাজের প্রযুক্তি-নিয়ন্ত্রিত দিকের প্রতি একধরনের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।



