17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলারিশাদের তীক্ষ্ণ বোলিং, লিটনের শীর্ষ ফিফটি দিয়ে ধূমকেতু একাদশের জয়

রিশাদের তীক্ষ্ণ বোলিং, লিটনের শীর্ষ ফিফটি দিয়ে ধূমকেতু একাদশের জয়

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ধূমকেতু একাদশের তীব্র পারফরম্যান্সে দলটি ৬ উইকেটে জয়লাভ করে। টুর্নামেন্টটি বিশ্বকাপের ফাঁকা সময়ে দেশের তরুণ প্রতিভাদের খেলা দেখানোর জন্য আয়োজন করা হয়, আর এই ম্যাচে রিশাদ হোসেনের তীক্ষ্ণ বোলিং ও লিটন কুমার দাসের শীর্ষ ফিফটি বিশেষ দৃষ্টিনন্দন ছিল।

ধূমকেতু একাদশ, যেটি জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত, প্রথমে ব্যাটিং করে ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে শেষ করে। টিমে কোনো খেলোয়াড়ই পাঁচের বেশি স্কোর করতে পারেনি, তবে রিশাদ হোসেনের তিনটি উইকেটের অবদান লক্ষ্যণীয় ছিল। তিনি বিগ ব্যাশে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ফিরে এসে ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।

ধূমকেতুর লক্ষ্য পূরণে ব্যাটিংয়ে ধরা পড়ে সাইফ হাসান, যিনি খোলার ওভারে দ্রুতই ফিফটি করে দলের শুরুর গতি বাড়িয়ে দেন। ক্যাপ্টেন লিটন কুমার দাসও শূন্যে না থেকে ৪৩ বলে ৬৫ রান করে অটুট থাকেন, যা তার বিয়ে-এল-প্রি (BPL) শোয়ারে কোনো ফিফটি না করার পরের প্রথম বড় স্কোর। তার এই আক্রমণাত্মক ইনিংস দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

টস হারে ব্যাটিংয়ে নামা ধূমকেতু একাদশের প্রথম তিন ওভারে ২০ রান যোগায়। জিসান আলম মাত্র তিনটি ডেলিভারিতে অংশ নেন, আর চতুর্থ ওভারে তানজিম হাসান ধারাবাহিক দুইটি চতুর্থ এবং একটি ছক্কা মারেন, তবে পরের বলেই তিনি আউট হয়ে যান। ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও আজিজুল হাকিমের শটগুলো সৃজনশীল হলেও রান সংগ্রহে তেমন সফল হননি।

দশম ওভারে রিশাদ হোসেনের বোলিং ধূমকেতুর জুটি ভেঙে দেয়। উভয় দলই উন্মুক্তভাবে আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যায়; আজিজুল হাকিম, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে অন্ডার-১৯ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর ফিরে এসেছেন, ১৬ বলে ২১ রান করেন। অন্যদিকে মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৩৬ বলে ৩৯ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোর করেন, তবে তিনি পরেই আউট হন।

রিশাদের ধারাবাহিক চাপের ফলে আরিফুল ইসলাম (২) দ্রুত আউট হন, আর এসএম মেহেরব (১০ বলে ১৫) ও আকবর আলি (১০ বলে ১৮) ভাল সূচনা করলেও বড় ইনিংস গড়ে তুলতে পারেননি। মাঝারি পর্যায়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৬ বলে ৫) এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে থাকে।

পঞ্চদশ ওভারে ধূমকেতু একাদশের ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ নাহিদ রানার পরিবর্তে জাওয়াদ আবরারকে নামানো হয়। এই নিয়ম আইপিএল থেকে ভিন্ন; বদলি খেলোয়াড় ব্যাটিংয়ে অংশ নিতে না পারলেও বোলিং করতে পারেন। আবরার ১০ বলে ৮ রান করেন, তবে শেষের দিকে দলের স্কোর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেষের দিকে, আব্দুল গাফফার সাকলাইন দুইটি ছক্কা মারার মাধ্যমে ১৫ রান যোগিয়ে দলকে ১৪০ রানের পারাপার নিশ্চিত করেন। ধূমকেতু একাদশের চূড়ান্ত রানের গতি উড়ন্ত ছিল; তারা ২৩ বল বাকি রেখে লক্ষ্য স্কোরে পৌঁছায়।

এই জয় ধূমকেতু একাদশের জন্য আত্মবিশ্বাসের বুস্ট, আর রিশাদ হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্স তাকে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পুনরায় উজ্জ্বল করে তুলেছে। লিটন কুমার দাসের শীর্ষ ফিফটি তার ব্যাটিং গড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক সূচক হতে পারে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উভয় দলই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শীর্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের পরবর্তী রাউন্ডে ধূমকেতু একাদশের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, আর টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে নতুন ম্যাচের সূচি প্রকাশিত হবে। এই ধরনের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রতিভা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রস্তুতি নিতে পারবে, এবং ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেটের স্বাদ উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments