17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনজেন ফোন্ডার ‘গ্যাসলিট’ ডকুমেন্টারি সান্তা বারবারা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার

জেন ফোন্ডার ‘গ্যাসলিট’ ডকুমেন্টারি সান্তা বারবারা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার

অভিনেত্রী জেন ফোন্ডা টেক্সাস ও লুইজিয়ানার লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (LNG) শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে ‘গ্যাসলিট’ শিরোনামের নতুন ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ার সান্তা বারবারা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। ফোন্ডা নিজেই পরিবেশগত কর্মী হিসেবে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়ে LNG উৎপাদন ও রপ্তানির ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট ক্ষতি তুলে ধরেছেন। চলচ্চিত্রটি পরিবেশ সংস্থা গ্রীনপিসের আর্থিক সহায়তায় তৈরি।

‘গ্যাসলিট’ ডকুমেন্টারিতে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাসকে ‘লাভজনক জ্বালানি’ বলা হলেও, এর উৎপাদন ও রপ্তানি উচ্চ মাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং আশেপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। গ্রীনপিসের সমর্থনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি টেক্সাসের পশ্চিমাঞ্চল ও লুইজিয়ানার কয়েকটি সম্প্রদায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা রেকর্ড করেছে।

ফোন্ডা ও দুইজন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মিথেন হান্টার’ নামে পরিচিত গবেষক দীর্ঘ দূরত্বের রোড ট্রিপে পশ্চিম টেক্সাসের গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। তারা অপটিক্যাল গ্যাস ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে দৃশ্যমান না হওয়া মিথেন নির্গমন সনাক্ত করে এবং তা সরাসরি স্ক্রিনে দেখেন। এই প্রযুক্তি গ্যাস লিকের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ে সহায়তা করে, যা সাধারণ চোখে অদৃশ্য থাকে।

একজন গবাদি পশু পালনকারী কৃষককে সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, যিনি বহু প্রজন্ম ধরে পারিবারিক জমি চালিয়ে আসছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক তেল উত্তোলন কাজের ফলে তার জমির পানিতে দূষণ ঘটেছে এবং তিনি সেই জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস শিল্পের রাসায়নিক পদার্থগুলো ভূগর্ভস্থ জলের গুণমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের সংগঠকরা জানান, গ্যাস ক্ষেত্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের ক্যান্সার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদী মিথেন ও অন্যান্য দূষকের সংস্পর্শে থাকা এই রোগগুলো বাড়ছে। এই তথ্যগুলোকে সমর্থন করে কয়েকটি স্বাস্থ্য গবেষণার ফলাফলও প্রকাশ পেয়েছে।

ডকুমেন্টারির কিছু অংশে অভিনেত্রী কনি ব্রিটন এবং গায়িকা ম্যাগি রজার্সের উপস্থিতি দেখা যায়। তারা ফোন্ডার সঙ্গে 현장 পরিদর্শনে অংশ নেন এবং গ্যাস লিকের বাস্তব চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের উপস্থিতি চলচ্চিত্রের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

জেন ফোন্ডা ২০১৯ সালে ওয়াশিংটনে ‘ফায়ার ড্রিল ফ্রাইডে’ শিরোনামে জলবায়ু পরিবর্তন বিরোধী প্রতিবাদ শুরু করেন, যেখানে তিনি বহুবার গ্রেপ্তার হন। এই প্রতিবাদগুলোতে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে জনসাধারণের মনোযোগ পরিবেশ সমস্যার দিকে বাড়ে।

২০২২ সালে ফোন্ডা একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম কমিটি (PAC) প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ফসিল ফুয়েল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের নির্বাচনে পরাজিত করা। এই সংগঠনটি পরিবেশবান্ধব নীতি সমর্থনকারী প্রার্থীদের সমর্থন করে এবং তেল-গ্যাস সংস্থার আর্থিক প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে।

ফোন্ডা সম্প্রতি একটি আলোচনায় উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA) যে নীতিগুলো গ্রহণ করেছে, তা স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, সেলিব্রিটি হিসেবে তার প্রভাব ব্যবহার করে ২০২৬ সালে আরও বেশি মানুষকে পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিয়ে সচেতন করা সম্ভব।

‘গ্যাসলিট’ ডকুমেন্টারির মাধ্যমে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের দায়িত্ব সম্পর্কে জনমত গঠন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দর্শকরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে পাবেন এবং ভবিষ্যতে টেকসই জ্বালানি নীতি গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments