প্যাসিফিক ফিউশন কোম্পানি স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত এক সিরিজ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা ফিউশন রিএক্টরের কিছু ব্যয়বহুল অংশ বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। কোম্পানিটি এই তথ্য টেকক্রাঞ্চের সঙ্গে ভাগ করেছে এবং দাবি করে যে নতুন পদ্ধতি ভবিষ্যতে কম খরচে ফিউশন শক্তি উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে।
ফিউশন শক্তির মূল প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে: রিএক্টর চালু করার প্রাথমিক খরচ কি উৎপাদিত বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হবে? এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফিউশনকে বাণিজ্যিক শক্তি উৎস হিসেবে গ্রহণ করা কঠিন।
বাজারে বেশ কয়েকটি স্টার্টআপ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কমনওয়েলথ ফিউশন সিস্টেমস বর্তমানে কয়েক শত মিলিয়ন ডলারের ব্যয়বহুল রিএক্টর নির্মাণে অগ্রসর, তবে সেটি আগামী বছর পর্যন্ত চালু হবে না।
প্যাসিফিক ফিউশন তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা, যা কম খরচে ফিউশন পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে। আজকের ঘোষণায় তারা স্যান্ডিয়ায় করা পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেছে, যা তাদের পদ্ধতির কিছু ব্যয়বহুল উপাদান বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা দেখায়।
পরীক্ষাগুলো পুলস-ড্রাইভেন ইনর্শিয়াল কনফাইনমেন্ট ফিউশন (ICF) নামে পরিচিত পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। এই পদ্ধতিতে ছোট জ্বালানি পিলেটগুলোকে দ্রুতক্রমে সংকুচিত করা হয়, ফলে পিলেটের ভিতরের পরমাণু ফিউশন ঘটিয়ে শক্তি মুক্তি পায়।
প্রচলিত ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি (NIF) লেজার ব্যবহার করে পিলেটকে সংকুচিত করে, তবে প্যাসিফিক ফিউশন বৈদ্যুতিক পুলসের মাধ্যমে একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়। বৈদ্যুতিক পুলসগুলো একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা পিলেটকে ঘিরে রাখে এবং একশো বিলিয়নথ সেকেন্ডের কম সময়ে সংকুচিত করে।
এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হল পিলেটের আকার প্রায় পেন্সিলের ইরেজার সমান, এবং সংকোচনের সময়সীমা একশো পিকোসেকেন্ডের নিচে সীমাবদ্ধ। ত্বরিত সংকোচন যত দ্রুত হবে, তত বেশি তাপ উৎপন্ন হবে, যা ফিউশন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে।
কীথ লে-চিয়েন, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও, উল্লেখ করেছেন, “যত দ্রুত পিলেটকে ইমপ্লোড করা যায়, তত বেশি তাপমাত্রা অর্জিত হয়।” এই মন্তব্যটি পুলস-ড্রাইভেন পদ্ধতির তাত্ত্বিক সুবিধা তুলে ধরে।
পুলস-ড্রাইভেন ICF-এ পূর্বে একটি প্রারম্ভিক “কিকস্টার্ট” প্রয়োজন হত, যা অতিরিক্ত জটিলতা ও ব্যয় বাড়াত। প্যাসিফিক ফিউশন দাবি করে যে তাদের নতুন পুলস ডিজাইন এই প্রারম্ভিক ধাপটি বাদ দিয়ে সরাসরি উচ্চ তাপমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম।
যদি এই দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে লেজার-ভিত্তিক সিস্টেমের তুলনায় উল্লেখযোগ্য খরচ সাশ্রয় সম্ভব হবে। লেজার ব্যবস্থা গঠন, রক্ষণাবেক্ষণ ও শক্তি সরবরাহে উচ্চ ব্যয় যুক্ত, যেখানে বৈদ্যুতিক পুলস তুলনামূলকভাবে সহজ ও সস্তা হতে পারে।
ফিউশন স্টার্টআপগুলো সাধারণত ২০৩০-এর দশকের প্রথমার্ধে প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন প্ল্যান্ট চালু করার লক্ষ্য রাখে। প্যাসিফিক ফিউশনও একই সময়সীমা লক্ষ্য করে, তবে তাদের পদ্ধতি খরচ কমিয়ে এই লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্যাসিফিক ফিউশনের সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল ফিউশন শক্তির খরচ কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। যদিও এখনও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রিএক্টর নির্মাণে অনেক ধাপ বাকি, তবে বৈদ্যুতিক পুলসের ব্যবহার ভবিষ্যতে ফিউশনকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলতে পারে।
এই অগ্রগতি বিবেচনা করে, ফিউশন শক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের জন্য প্রশ্ন রয়ে যায়: পুলস-ড্রাইভেন পদ্ধতি কি সত্যিই খরচের বাধা দূর করে দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব করবে? উত্তরটি পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফলে নির্ভর করবে।



