17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসির সিনিয়র সহকারী সচিব সুধাংশু কুমারকে এনআইডি লেনদেনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব সুধাংশু কুমারকে এনআইডি লেনদেনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সহকারী সচিব সুধাংশু কুমারকে এনআইডি সংশোধনের সময় ৩০০ টাকা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে ২৯,০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং পরে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, কুমারকে এনআইডি তথ্য সংশোধনের সময় ৩০০ টাকার অবৈধ লেনদেন করতে দেখা গিয়েছে এবং এই লেনদেন গোপন রাখতে ২৯,০০০ টাকা ঘুষ প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। উভয় লেনদেনই নির্বাচনী তালিকায় তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার পর, কুমারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এর ধারা ৪(৩)(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা (নম্বর-০৪/২০২৫) দায়ের করা হয়। মামলার পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় স্থায়ী বরখাস্তের শাস্তি আরোপ করা হয়।

বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ইসি সচিবালয়ের আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি তদন্তের ফলাফল জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজস্ব সমর্থন দাবি করলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে।

কুমারের পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে তার ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত প্রমাণ সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, পরবর্তী পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এর ধারা ৪(৩)(গ) অনুসারে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা রক্ষার জন্য এমন কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতে অনুরূপ লেনদেন রোধে কঠোর তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনার আগে ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকেও অনুরূপ অভিযোগে রবখাস্ত করা হয়েছিল। উভয় ঘটনার ধারাবাহিকতা ইসির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে এবং নির্বাচন সংস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইসির এই পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। তবে, বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইসির স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন করতে পারে।

ইসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সকল সরকারি কর্মচারীর ওপর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখতে কঠোর নীতি প্রয়োগ করা হবে। তারা আরও জানায়, কোনো কর্মকর্তা যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঠিকতা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ও শৃঙ্খলাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপে, সুধাংশু কুমারকে এনআইডি সংশোধনের সময় অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর। ইসির এই কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments